৬ ডাক্তার বরখাস্তের প্রতিবাদ জানালেন কর্ম কমিশনের সদস্য আব্দুল জব্বার খাঁন

পিএসসি সদস্য আব্দুল জব্বার খাঁন আজ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন যেখানে তিনি ৬ ডাক্তার বরখাস্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পোস্টটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। পাঠকের জন্য সেটা হুবহু তুলে ধরা হলঃ

“এই দুর্যোগের সময় আর কেউই চাকরি হারালো না, হারালো ছয়জন চিকিৎসক!
সব সময় ভেবেছেন দেশের স্বাস্থ্যখাতকে উন্নত করার কোনো দরকার নেই। আমার কিছু হলে বিদেশে গিয়ে ট্রীটমেন্ট নিয়ে আসবো। রথ দেখা কলা বেচা দুটোই হবে। সামান্য সর্দিকাশি হলেও Thorough Check up করতে বিদেশে উড়াল দিয়েছেন। বাই দ্যা ওয়ে, এই thorough check up জিনিসটাও কিন্তু আপনারই পরিভাষা। মেডিকেল সায়ন্সে এই ভাষা এখনো অনুপস্থিত।

এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কি শুধু ডাক্তার-এঞ্জিনিয়াররা পড়ে? বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, আইনের ছাত্ররা পড়ে না? গায়ে লাগলো? ইউজিসির কাছ থেকে মাথাপিছু খরচের হিসাবটা দেখে নিবেন। জ্বী, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কম। তারপরও ছড়ি ঘোরাবার সময় মনে হয় এরা দেশের মানুষের টাকা চুষেচুষে খেয়েছে, এদের শায়েস্তা করতে হবে।

আপনার অফিসটাকে ঝকঝকে তকতকে রাখার জন্য পিয়ন আবদালি সবই রেখেছেন। চাকরি জীবনের মাঝ বয়সে এসে গাড়ি, ড্রাইভার সব পাবার জন্য নিয়ম বানিয়ে নিচ্ছেন। আহা! আপনার সেবাটাই শুধু জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর ডাক্তারের সেবা, শিক্ষকের সেবা?

আপনি কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে নিজের অফিস রুমে বসে এসিটা ছেড়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে পারেন। আর আপনার সরকারি ডাক্তার সে দৌড়াতে দৌড়াতে শুধু রোগীই দেখবে! আপনার দেশের ডাক্তারের রুমে শেষ কবে গিয়েছেন? এই ডাক্তার তার শিক্ষাজীবনের কোন স্তরে আপনার চেয়ে পিছিয়ে পড়া ছাত্র ছিল? আপনাদের কত পারসেন্ট এই ডাক্তারের চেয়ে বেশি মেধার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন?

ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে এই আকাশপাতাল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে কে? একজন গাঁটের পয়সা খরচ করে গাড়ি, ড্রাইভার, এসি পাবে আরেকজন চলবে জনগণের পয়সায়! ওয়াও!!

আজকে স্বাস্থ্যখাতের যে করুণ অবস্থা দৃশ্যমান হয়েছে সেজন্য দায়ী কে, কারা? তাদের কয়জনের চাকরি গেছে? নাকি তারা untouchable সম্প্রদায়ের?

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কি ডাক্তারদের কাজ? মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট চলেছে যুগযুগ ধরে সেটার ভাগতো আপনিও নিয়েছেন। এসব সিন্ডিকেটের খবর আপনার পিয়নও জানে। জানেন না শুধু আপনি?

ঐ ছয়জনকে বরখাস্ত করার আগে এগুলো একটু ভাবা উচিত ছিল না? একবারো কি আপনারা এই লকডাউনের মধ্যে ডাক্তাররা কি খেয়ে ডিউটি করছেন, নাকি না খেয়ে করছেন, নাকি শুকনো পাউরুটি আর কলা খেয়ে করছেন – সেই খবর রেখেছেন? কী সুব্যবস্থা রেখেছেন তাদের জন্য?

করোনা ভাইরাস হয়তো আর দুই মাস পর চলে যাবে কিন্তু আপনারা যে কঠিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বসে আছেন সেটা থেকে জাতি কীভাবে রক্ষা পাবে?

ভাবার সময় পেয়েছেন, ভাববেন। বেঁচে থাকলে ভাইরাসমুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন – এই শুভকামনাই রইলো।”

Facebook Comments

Related Articles

2 Comments

  1. চিকিৎস, নার্স মেধা তালিকার শির্ষে থেকে বাচাই করে যখন পেশাগত শিক্ষায় প্রবেশ করেন তখন যে শপথ করানো হয়, শিক্ষা জীবনে পুরো সময় উক্ত শপথকে স্বরণ করেই মানব সেবার জন্য প্রস্তত করা হয়। তারপরে চাকরি যুদ্ধে আবার মেধা ধোলাই, নানা কাঠখড় পুড়িয়ে চাকরিতে যোগদানের শুরু থেকেই কর্মক্ষেত্রে যে পরিবেশ বিরাজ করে তাহা হতাশা ব্যন্ঞ্জক। এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নাকি দেশের বাস্তবতা, সিনিয়রদের ভাষ্য মতে। সেবা দানে পদে পদে নানা বাধা বিড়ম্বনার মধ্যে কাজ করতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। এ দূর্যোগের সময় চিকিৎসক বরখাস্ত মানে সরকারের বাহবা পাওয়া নয়, বরং পিছিয়ে গেল আরও অনেক। সংক্রামক শব্দটা মানুষের মধ্যে বোঝাতে, মানতে যা করা দরকার তাহা বাস্তবে বুঝতে আরো মানুষের মৃত্যু দেখতে চায় অনেকে। তাই এ রকম সংকটাপন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এ আদেশ দ্রুত বাতিল করে তাদেরকে কর্মে ফিরে এনে আরো সাহস যোগানো দরকার।

  2. আমরা কেমন যেন এক অসহিষণু সমাজে বাস করছি।কথায় কথায় চিকিৎসকদের মুনডুপাত করা এক শ্রেণীর টকশো সর্বস্ব ছিদ্রান্বেশী বুদ্ধিজীবি, সাবেক উচ্চপদস্থ আমলা,সাংবাদিক রাজনীতিবিদদের অভ্যাস হয়ে দাঁডিয়েছে।আরও দুর্ভাগ্যজনক সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকেও যখন অসন্মানজনকভাবে চিকিৎসকদেরকে ভৎসনা করা হয়। সন্দেহ হয় আগামীতে আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মেধাবী ছাত্ররা ডক্তারী পড়তে আসবে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Close