ডা.মঈন উদ্দীন,করোনাযুদ্ধের এক বীর শহীদের গল্প

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী

ভয় নাই ওরে ভয় নাই

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান

ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই “

একটি প্রাণের ক্ষয় হলো। আসলে কি ক্ষয় হলো? নাকি আমরা হতে দিলাম? কারা দায়ী? নাকি মানুষটির অকালপ্রয়ান হলেও আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা কালিমার স্তুপে জর্জরিত রাষ্ট্রব্যবস্থার কংকাল?

আজ ১৫ এপ্রিল,২০২০ সকাল ৭:৩০ মিনিটে করোনা ভাইরাসের করালগ্রাসে মারা গেলেন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ,সিলেট এর মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.মঈন উদ্দীন।

নিবেদিতপ্রাণ,মেধাবী এই মানুষটি ছাত্রজীবনে বোর্ড স্ট্যান্ডসহ সুযোগ পেয়েছিলেন বুয়েট,ঢাকা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার।মানবতার সৈনিক হিসেবে বুকে ধারণ করে নিয়েছিলেন চিকিৎসা পেশার ছাত্র হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার অধ্যাবসায়। কৃতিত্বের সাথে এম বি বি এস,এফ সি পি এস,এম ডি সম্পন্ন করে হয়েছিলেন মেডিসিনের একজন মেধাবী শিক্ষক এবং চিকিৎসক। ছিলেন বিসিএস ক্যাডার।কর্মজীবনে দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন বহুদিন।পরবর্তীতে যোগ দিয়েছিলেন সিলেট মেডিকেল কলেজে।ছাত্রবৎসল এই চিকিৎসক তার ব্যক্তিজীবনে ছিলেন দুই সন্তানের জনক।

জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে করোনার প্রভাবের মাঝেও তিনি দিয়ে গেছেন হাসপাতাল এবং চেম্বারে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা।হ্যাঁ একজন চিকিৎসক এর দায়িত্ব হয়তো সেটি।কিন্তু সেই চিকিৎসক, সেই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার নিরাপত্তার দায়িত্ব যে রাষ্ট্রের সেই রাষ্ট্র কি নিতে পেরেছে সেই ভূমিকা? গত ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম যে ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছিলেন তিনি ছিলেন ডা.মঈন উদ্দীন।৭ এপ্রিল অবস্থার অবনতি হলে তাকে শামসুদ্দিন করোনা

সেন্টারে নেওয়া হলেও সেখানে ছিলনা পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা।তিনি অসহায়ের মতো মেসেজ দিয়েছিলেন আইসিইউ এম্বুলেন্সের জন্য।প্রশাসন তার জন্য এয়ার এম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারেনি।অথচ বারবার বলা হয়েছে করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। বিসিএস ষষ্ঠ ক্যাডারের একজন চিকিৎসক যখন এভাবে সেবা চেয়ে অসহায়ের মতো মেসেজ দেন, তখন মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কি শুধু একজন চিকিৎসক বলেই এমন উপেক্ষিত? তার কাজ কি শুধু সেবাই দেওয়া? নিজের বাঁচার কোনো অধিকার নেই?

পর্যাপ্ত পিপিই সরবরাহ না থাকলেও তিনি তার ডিউটি পালন করে গেছেন বীরের মতো।ঢাল তলোয়ার ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক লড়ে না।কিন্তু তিনি লড়ে গেছেন। লড়াই করেছেন জুনিয়র চিকিৎসক দের পিপিই সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে।লড়াই করেছেন দেশ মাতৃকার মানবতার ডাকে,করোনার বিরুদ্ধে,দেশের নষ্ট সিস্টেমর বিরুদ্ধে।

তিনি আজ নেই। একজন বীরকে আমরা হারিয়েছি।কিন্তু মাঠে আছে আরো হাজারো বীর চিকিৎসক। ডা.মঈনের আত্মত্যাগ তারা বৃথা যেতে দিবে না।কিন্ত একটা কিন্তু থেকেই যায় । এই রাষ্ট্র কি কখনো পারবে এসকল নিঃশেষে প্রাণ দান করা বীরের মর্যাদা দিতে?,নিবে কি তার অনাথ দুটো সন্তানের দায়িত্ব??

স্যালুট হে কমরেড!!

স্যালুট ডা.মঈন উদ্দীন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles