হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন (রিকোনিল) নিয়ে ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত বক্তব্য, ক্ষুব্ধ বিশেষজ্ঞরা

কোভিড- ১৯ (করোনা) এর চিকিৎসা নিয়ে ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত বক্তব্য, ক্ষুব্ধ বিশেষজ্ঞরা!

কোভিড-১৯ বা করোনা রোগটি বিশ্বব্যাপী তীব্র আতংক সৃষ্টি করেছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে৷

এর শতভাগ নির্ভরযোগ্য কোন চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত হয় নি। অনেকগুলো ওষুধ নিয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছেন।

এমন অবস্থায় করোনার চিকিৎসা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত ও বেফাঁস মন্তব্যেে অনেকেই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত৷

বিশেষ করে “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” নামক ওষুধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে অতিউৎসাহী বলছেন অনেকেই।

“হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” নামের এ ওষুধটি সাধারণত ম্যালেরিয়া, লুপাস, রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস প্রভৃতি রোগে চিকিৎসকরা ব্যবহার করে থাকেন। লুপাস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

করোনা চিকিৎসায় “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” নিয়ে ট্রাম্পের কথার সাথে বিশেষজ্ঞরা কোন ভাবেই একমত হতে পারছেন না৷

কোন রোগের চিকিৎসায় কোন নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণযোগ্য কি না তা জানার জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে “ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ” । এমনকি ট্রাম্পের এডভাইজার এন্থনি ফসিও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া কোন ওষুধকে কার্যকর বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন।

এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল একটি সময়সাধ্য ব্যাপার। বিশেষজ্ঞগ্ণ ট্রায়ালের ফলাফল ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই ওষুধ ব্যবহারে গ্রীন সিগনাল দিয়ে থাকেন৷

যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫ টি প্রতিষ্ঠানে করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” এর ব্যবহার নিয়ে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

তাদের বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বেশিরভাগই ট্রাম্পের মন্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।

যেমন, ২৯ মার্চে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন যে “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কয়েকদিনেই আইডিয়া পাওয়ায় সম্ভব।
অথচ ইউনিভার্সিটি অভ ওয়াশিংটন, ইউনিভার্সিটি ওভ ডিউসহ
গবেষণারত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান জানায় করোনা চিকিৎসায় “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” নিয়ে ধারণা পেতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে!

এছাড়া মার্চ ২১ এর একটি টুইটে ট্রাম্প “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” এবং “এজিথ্রোমাইসিন” ওষুধ দুটিকে করোনা চিকিৎসায় গেইম চেইঞ্জার হিসেবে অভিহিত করেন ।

এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” এর সংকট দেখা দেয়৷

অথচ ট্রাম্প যে ফ্রেঞ্চ স্টাডির ভিত্তিতে এই টুইট করেন তাকে অসম্পূর্ণ এবং ব্যর্থ বলেছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা৷

এপ্রিল ১ তারিখে ট্রাম্প “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” এর সাইড ইফেক্ট নিয়ে বলেছেন “ইট ডাজন্ট কিল ইউ “। এর সাইড ইফেক্ট খুব বেশি নয় এমনটাই তার ধারণা।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন উল্টো। সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন” ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত ও হতে পারে। হৃদরোগ ও দৃষ্টি জটিলতাসহ আরো অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এই ওষুধটি।

একজন ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ না হয়েও একটি ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে মণক্ষুণ্ণ বিশেষজ্ঞরা। এ ধরণের বক্তব্য অপেশাদার এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেছেন অনেকে।

উল্লেখ্য বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। সেখানে প্রায়ে সাড়ে ছয় লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় সাড়ে আটাশ হাজার মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন করুণ অবস্থার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতাকে একটি কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেখক – ডা. ফারহান অনিক

বিসিএস ( স্বাস্থ্য)

এমডি ফেজ এ ( কার্ডিওলজি, NICVD)

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles