ডা. মঈনের সম্মানে রাউজানের এমপি পুত্রের উদ্যোগঃ রমজানে সেহরী ২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য

রমজান মাসজুড়ে করোনা যোদ্ধাদের খাবারের সুব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী। সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক মঈনের সম্মানে এ উদ্যোগ জানিয়ে এর বিস্তারিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ। এ উদ্যোগ অনুকরণীয় বলে মনে করছেন অনেকে। নিচে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

এমপি ফজলে করিম চৌধুরী ও তাঁর পুত্র

“ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি বা পড়ি যে, আমরা করোনা যুদ্ধে শহীদ হওয়া আমাদের প্রথম চিকিৎসক ডাঃ মঈনকে আজীবন মনে রাখবো। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পৃথিবীর অনেক জাতির মতো এ জাতি নতুন ইস্যু পেলে পুরনো জিনিস ভুলে যায়। তার স্মৃতিতে শুধু স্মৃতিচরণ নয় , কাজ করার পরিকল্পনা নিলাম।

রাউজানে ২ টি রান্নাঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস জুড়ে প্রতিদিন রাত ৯ টা থেকে এই রান্নাঘর গুলোতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হবে প্রায় ২ হাজার মানুষের জন্য মানসম্মত খাবার। রাত ১২ টার দিকে আমরা রাউজান থেকে রওয়ানা দিবো চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সরকারি (সুযোগ থাকলে বেসরকারি) মেডিকেলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিকট সেহেরীর খাবার পৌঁছে দেওয়া। সেহেরীর সময় হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান খাবার থাকেনা এবং যেহেতু লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে আশেপাশে খাবারের দোকানগুলো বন্ধ, তাই নিজেদের থেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের সেহেরীর ব্যবস্থা করার কোন উপায় থাকবে না।

রাউজান উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের এই কার্যক্রমটি তত্ত্বাবধান করবেন রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহ সাহেব।

বলতে দ্বিধা নেই যে, মরতে একদিন সবারই হবে। তবে এই রকম ভালোবাসা ও সম্মান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার ভাগ্য মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন সবার বেলায় লিখে না।আমরা আমাদের ডাক্তার মঈনকে বাঁচাতে পারি নি। অন্ততপক্ষে তার স্মৃতিতে তার সহকর্মীদের যাতে খাবারের বেলায় কষ্ট না হয়, এই শক্তি যাতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের দেন। আমিন।

‘একজন রোগী যখন আমাদেরকে সিস্টার বা বোন বলে ডাকে তখন আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাকে সুস্থ করে তুলতে। এই পরিস্থিতিতে সামনের রোজার মাসে আমাদের অনেক চাপ থাকবে। ঠিকভাবে সেহেরী খেয়ে রোজা রাখতে পারবো কিনা তা জানি না।’ কথা গুলো আমাকে বলছিলেন একজন নার্স যাদের আমরা হাসপাতালে ‘সিস্টার’ বলে চিনি। আমাদের প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষের জন্য খাবার পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রান্না করার জন্য বাবুর্চি থাকবেন ১০ জন। আর খাবার পরিবেশন করার জন্য থাকবে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক। সকলের জন্যই পর্যাপ্ত গ্লাভস ও মাস্ক সংগ্রহ করা হয়েছে। চাল, ডাল, তেল সহ আরো অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পথিমধ্যে অন্যান্য পথচারী ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষগুলোর নিকটও আমাদের এই সেহেরীর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যারা রাত জেগে আমাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে তাদের নিকটও আমরা সেহেরীর খাবার পৌঁছে দিবো ইনশাআল্লাহ। রাউজানের সর্বস্তরের জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে এই কার্যক্রমটি করবো ইন শা আল্লাহ।”

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles