তামিলনাড়ুর গরুর শেষকৃত্য, মিশিগান কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ ওদের পাল্লাই ভারী।

মিশিগানে হাজার হাজার মানুষ আর্মস নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবী তারা লকডাউন চায়না। তাই বিপুল পরিমাণ এই মানুষ গায়ে গায়ে মিশে রাস্তায় অবস্থান নেয়।

আমেরিকার এ খবর বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ভিডিও সহ প্রচার করেছে।

এ প্রসেশনে যে পরিমাণ মানুষ দেখলাম আমেরিকার কোন রাজনৈতিক জনসভায়ও সাধারণত এত মানুষ দেখা যায় না। তারা তাদের দেশের সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলছে আমরা তোমাদের লকডাউন মানিনা।

এই মুহূর্তে আমি আছি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে।

এখানকার আজকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা এক গরুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।

মৃত এই গরুর শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করেছে হাজার হাজার মানুষ!
এই খবর বিশ্ববাসীকে দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

আমার এক বন্ধু দিল্লী থেকে আমাকে ফোন করে বলতেছিল, দেখছ এক গুরুর জানাজায় কি পরিমাণ গরু উপস্থিত হয়েছে! আমি ভেবে দেখলাম খারাপ বলে নাই।

বাংলাদেশে আজকে এক মাওলানা বা হুজুরের জানাজায় লকডাউন উপেক্ষা করে হাজার হজার মানুষ উপস্থিত হয়েছে।

মনে হচ্ছে এতে বাংলাদেশের গোটা ফেসবুক বিস্মিত!

বাট, আমি মোটেও অবাক হইনি। আমার অবাক না হবার কারণ আমি মনে করি একই লেভেলের কোন মাওলানা বা হুজুর যদি বরিশালে কিংবা সিলেটে অথবা রংপুরে মারা যেত তাহলেও একই চিত্র হত।

কাজেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে এত হাহাকার করার কিছু নাই।

তবে হ্যাঁ। অতীতেও এই জেলাটি বহুবার প্রমাণ দিয়েছে এটি বাংলাদেশের মিনি পাকিস্তান।

মনে আছে নাসিরনগরের কথা? রসরাজের কথা?

নাসিরনগর বা রসরাজের সেই ঘটনা শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াই থেমে থাকেনি। সেই মডেল অনুসরণ করেই পরবর্তীতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়, সিলেটের ওসমানীনগরে এবং বরিশালের ভোলাসহ বুহু জায়গায় ধর্মান্ধরা তান্ডব চালিয়েছিল।

মনে নাই সেসব?

কাজেই আজকে লকডাউন উপেক্ষা করে হুজুরের জানাজায় উপস্থিত হওয়া ভাইদের দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি।

এমনকি আমি মনে করি এদের দোষ দিয়েও কোন লাভ নেই। সারা বিশ্বেই এখন ফ্যানাটিকদের জয়জয়কার অবস্থা চলছে। হোক সে আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স, ইন্ডিয়া কিংবা বাংলাদেশ।

ফ্রান্সে আজ চরম ডানপন্থীরা ক্ষমতায়।

আমেরিকার কথাও সবাই জানে। জাতীয়তাবাদের নামে চরম ফ্যানাটিকরা রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

ভারতে ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বহুদিন ক্ষমতায়।

বৃটেনেও চরম ডানপন্থীরা একের পর এক নির্বাচনে জিততেছে। রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

কোথায় যাবেন?

মোটা দাগে এদের পাল্লাই ভারী।

তাহলে বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম হবে কেন?

এখানে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল ক্ষমতায় থাকলেও আদতে ক্ষমতার আরেক সাময়িক কার্নেল হয়ে দাঁড়িয়েছে হাটহাজারী বা হেফাজত কিংবা মোল্লা, মাওলানারা।

তাদের ট্যাক্স, ভ্যাট দিয়েই রাষ্ট্র চালাতে হচ্ছে। চেক এ্যান্ড ব্যাল্যান্স করেই ক্ষমতাসীনদের চলতে হচ্ছে। একথা গুলো অপ্রিয় তবে নির্মম সত্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি বা স্থানীয় সরকার দলীয় নেতার আজকের বক্তব্যের অসহায়ত্ব, নমনীয়তা তার শেষ উদাহরণ।

আজ গোটা দেশই সরাইল। পুরো রাষ্ট্রই ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আমরা কলেজ লাইফে কলেজের দেয়ালে যেসব স্লোগান লেখা দেখতাম তার মধ্যে একটি ছিল, আপস আপস সেকুলারিজম, ডাউন ডাউন ফ্যানাটিসিজম। আজ সে স্লোগান উল্টে গেছে!

ফ্যানাটিসিজম মুক্তি পেয়েছে। সেকুলারিজম নিপাত গেছে!

লেখকঃ ফজলুল হালিম রানা, শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles