তিনমাসে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন লাগাতে পারেন নি কেন? ঘোড়ার আগেই ছড়ি কিনতে তাড়া কেন?

খবরে দেখলাম ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে ১৪শ’ কোটি টাকার জরুরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।

যতটা জোর দিয়ে ‘নিঃসন্দেহ’ শব্দটা লিখলাম অতোটা জোর ভিতর থেকে পাইনি!
সত্যি বলছি, পাইনি!

ধরে নিলাম,
আপনারা স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর এই ১৪০০কোটি টাকায় অন্যান্য সব খরচ বাদ দিয়ে কম করে হলেও ১০০০ভেন্টিলেটর কিনতে পারবেন!

অবশ্য হাসপাতালের পর্দা কেনা, স্টেথো কেনা, চেয়ার কেনা আর চায়ের কাপ কেনায় আপনাদের যে ইতিহাস আছে তাতে করে এই ১৪০০কোটি টাকায় আপনারা যদি মাত্র ১৪টা ভেন্টিলেটরও কিনেন তাহলেও আমরা আমজনতা মোটেও আশ্চর্য হবো না!

অবশ্য দয়াপরবশ হয়ে যদি এই ১৪০০কোটি টাকায় ন্যূনতম হাজারখানেক ভেন্টিলেটরও আপনারা কিনেন তাহলে বলবো এতো ভেন্টিলেটর কোথায় সংযুক্ত করবেন!?

কোভিড হাসপাতালের আইসিইউ তে?

তার আগে জানতে চাই,
আপনাদের কয়টা কোভিড হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন(ম্যানিফোল্ড সিলিণ্ডার সিস্টেম বা অক্সিজেন প্লান্ট সিস্টেম) আছে?
ভেন্টিলেটরগুলো কি সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ছাড়াই শুধু হাওয়া-বাতাস দিয়েই চালাবেন?

তার আগে জানতে চাই,
এতো ভেন্টিলেটর চালানোর মতো কতোজন দক্ষ জনবল আপনাদের আছে?
নাকি জনবল ছাড়াই রোবট দিয়েই ভেন্টিলেটর চালাবেন?

ঘোড়া কেনার আগেই ছড়ি কিনতে এতো তাড়া কেন আপনাদের!?

তিনমাস হয়ে গেলো অথচ আজ পর্যন্ত কোভিড হাসপাতালগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন(ম্যানিফোল্ড সিলিণ্ডার সিস্টেম বা অক্সিজেন প্লান্ট সিস্টেম) স্থাপন করতে পারেননি!
আগে হাসপাতালগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ ভেন্টিলেটর বসানোর উপযোগী অন্যান্য সকল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও লোকবল নিশ্চিৎ করুন তারপর নাহয় ভেন্টিলেটর কিনবেন।

দেশের কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে এর আগেও হাজার হাজার সব ইন্সট্রুমেন্ট আপনারা কিনেছেন।

যেখানে যা প্রয়োজন নেই সেখানে সেইসব ইন্সট্রুমেন্টও আপনারা কিনেছেন যা বছরের পর বছর ধরে অব্যাবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং এইভাবে অব্যাবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে তার প্রায় সবগুলোই আজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

শঙ্কা হয়, ভেন্টিলেটরগুলোর দশাও কি এমন হবে?

এমনই তো হওয়ার কথা!
ভেন্টিলেটর সংযুক্ত করার উপযুক্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ব্যাবস্থাপনা না থাকলে সেগুলোও তো হাসপাতালের স্টোররুমে পঁচে পঁচে মরবে!

এভাবেই তো বছরের পর বছর ধরে এই স্বাস্থ্যখাতেই রাষ্ট্রের কাড়ি কাড়ি টাকা গচ্চা যাচ্ছে!
জনগণের ট্যাক্সে পকেট কাটছে!
তাতে কি?
আপনাদের মন্ত্রনালয় আর অধিদপ্তরের কর্তাবাবুদের পকেট তো ঠিকই ভারি হচ্ছে!
আবজালরাও দিনেদুপুরে ফুলেফেপে একেকটা বটগাছ হচ্ছে!

জিডিপি’র মাত্র ০.৮৯ শতাংশ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে ব্যায় হয় যা প্রায় সারা পৃথিবীতেই বিরল!
তারপরেও দেশের জনগোষ্ঠীর একটা বৃহদাংশ সরকারিভাবেই স্বাস্থ্যসেবাটা পাচ্ছে!

বাজেটের যে যৎসামান্য অংশটুকু আমাদের স্বাস্থ্যখাতে ব্যায় হয় তার আশিভাগও যদি প্রোপার ইউটিলাইজ হতো তাহলে নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যখাতে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারতাম,
আমাদের জনগণ সরকারের কাছ থেকেই আরো উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা পেতো, তাদেরকে প্রাইভেট কর্পোরেট হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হতো না!

লেখাঃ আতিকুজ্জামান ফিলিপ, সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, স্বাচিপ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles