করোনার কারণে বিরাট ধাক্কা লেগেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিরাট ধাক্কা লেগেছে, বাধা এসেছে। তবে আশা করি বাধা দূর করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী যে সমস্যা, সমস্যাটাও দূর হবে।

রোববার (০৯ মে) কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। এতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

এ সম শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে। মেনে চলতে পারলেই সুরক্ষিত থাকা যাবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, কোনও বড় জায়গায় একসঙ্গে না হওয়া– এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সংক্রমিত না হওয়ার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

ভয় পেয়ে অনেকের করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ নিয়ে খেদ প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কোনও সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দূরছাই করা বা দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।’

ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে যারা অনুদান দিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে আজকে এমন একটা অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে যেটা কখনো কেউ ভাবতেই পারে নাই যে এমন একটা যুদ্ধ সবাইকে করতে হবে। মানুষ যুদ্ধ করে শত্রুকে সামনে রেখে। কিন্তু এটা একটা অদৃশ্য শক্তি, একটা ভাইরাস। এর কারণে একদিনে যেমন মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অনেকই মৃতুবরণ করেছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটা রয়েছে। আমার মনে হয়, এই ধরনের ঘটনা আর কখনো সারা পৃথিবীতে ঘটেনি। যুদ্ধ হয়েছে যেখানে সব এলাকার মানুষ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এটা এমন একটা অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ, এখানে যতবড় অস্ত্রধারী বা সম্পদশালী হোক না কেন কারো যেন কিছুই করার নাই। সবাই অসহায়। আবার এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে সকলেই এক হয়ে গেছে। এটাও ঠিক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটা বিষয় দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতি যেন মুক্তি পেয়েছে যে, আমাদের সভ্যতার বিকাশের ফলে প্রকৃতি যে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল, নানাভাষে দূষণ হচ্ছিল সেটা থেকে মুক্তি পেয়েছে। এটা একটা অদ্ভুত পরিবেশ।

এটা এমন একটা সংক্রামণ ব্যাধি মানুষে মানুষে কথা বলা, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার ওষুধ এখনও বের হয়নি। এটাও একটা অবাক কাণ্ড। যদিও বলা হয় কোভিড-১৯। কোভিড-১৯ যখন পাওয়া গেল তখন থেকে এর রিসার্চ জোরেশোরে করা উচিত ছিল যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বা মানবজাতিকে রক্ষা করার একটা ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। যদিও এখন গবেষণা চলছে। আমরা আশা করি খুব শিগগির এর প্রতিষেধক বের হবে এবং মানুষ এখান থেকে মুক্তি পাবে।’

করোনাভাইরাসে আমাদের অর্থনীতির ওপর বিরাট প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ দৈনন্দিন জীবনে যারা কাজ করে খেতো তাদের সেই কাজের পথ বন্ধ। লেখাপড়া বন্ধ। অনেক ধরনের আমাদের কর্মসূচি চলতো সেগুলো বন্ধ। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম যেটা আমরা টেলিভিশন, রেডিওসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করতে হয়েছে। কিন্তু নানা প্রস্তুতি থাকার পরেও করোনার কারণে আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী করতে পারিনি। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের কথা চিন্তা করে আমরা সেই সব কর্মসূচিও স্থগিত করে দিয়েছি। অনেক মানুষ আজকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের জীবন যাপন করাটাই কষ্টকর। যদিও আমরা তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করার জন্য চেষ্টা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যখন প্রায় সমস্ত কাজই বন্ধ। তখন আমাদের কৃষিই হচ্ছে একমাত্র..। সেই কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমি আহ্বান জানানোর পরে আমি আমাদের দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ কৃষকের জমিতে ধান কাটার জন্য নেমে পড়ে। এর জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বব্যাপী যে দুর্ভিক্ষের আলামত দেখা যাচ্ছে, যে মহামারির কথা বলা হচ্ছে তাতে যেন আমাদের দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অন্তত তাদের খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়। আমরা সেই দিকে দৃষ্টি দিয়েছি। এবার ব্যাপক ধান উৎপাদন হয়েছে। আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব নাই। আমরা ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণও করে যাচ্ছি।’

Facebook Comments

Related Articles