মাস্ক তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে ১২ দিন আগে, এখনো দেখেন নাই মন্ত্রী

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীদের জন্য এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহের ঘটনা তদন্ত করে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ১২ দিন আগে। তবে তা এখনও ‘দেখেননি’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মাস্ক কাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে রোববার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, রিপোর্ট দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

“রিপোর্ট আসুক। তারপর আমি দেখব।”

গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৮ এপ্রিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ার বিষয়টি জানানো হলে জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে অফিসে ‘কম যাচ্ছেন’ তিনি। সে কারণে এখনও প্রতিবেদনটি তার ‘দেখা হয়নি’।

তবে তিনি বলেন, “কেউ যদি ভুল করে থাকে। তাকে ভুলের জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটা অবশ্যই দেখা হবে। অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মাস্কে অসঙ্গতি পাওয়ার বিষয়টি শুনে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমানকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০ এপ্রিল গঠিত এ কমিটিকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে আরও পাঁচ দিন সময় বাড়ানো হয়।অথচ মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত কেউকে শাস্তির আওতায় আনা না গেলেও ‘মাস্কের ব্যাপারে জানতে চাওয়া/গ্রহণে অস্বীকৃতি’ জানানো দুই হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, রোগীর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সংক্রমণ এড়াতে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্ক পরা জরুরি। তবে মার্চের শেষ ভাগে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব মাস্ক পাঠানো হয়, তার প্যাকেটে ‘এন-৯৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ মাস্ক।

ফলে সেগুলো আসল মাস্ক কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের ব্যাপক হারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পেছনে কারণ হিসেবে এই মাস্কের প্রসঙ্গও তুলছেন অনেকে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে এসব মাস্ক সরবরাহ করেছিল জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

সূত্রঃ বিডিনিউজ

Facebook Comments

Related Articles