রাজ্যের মানুষ বাঁচাতে ঈদেও লকডাউন থাকুক: মমতাকে ইমামদের চিঠি

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশই বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সংক্রমণ ঠেকাতে গোটা ভারতের সাথে পশ্চিমবঙ্গেও জারি রয়েছে লকডাউন। করোনাভাইরাস ও লকডাউনের আবহে বন্ধ রয়েছে বাঙালির নানা উৎসব ও পার্বন।

আগামী কয়েকদিন পরেই মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। কিন্তু মরণ এই ভাইরাস সেই আনন্দেও ভাটা ফেলেছে। ঈদের কেনা-কাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় সবই বন্ধ। এমন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে বড় মনের পরিচয় দিল সেখানকার মুসলিমরা। তাদের অভিমত ‘আগে মানুষ বাঁচুক, পরে উৎসব’।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাজ্যে লকডাউনের সময়সীমা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যটির ইমামারা। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিকে চিঠি দিয়েছে ‘বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন’।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন আগামী ১৭ মে’এর পর প্রত্যাহার করে নিলেও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার যেন লকডাউন প্রত্যাহার না করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আগামী ২৫ তারিখে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাঝে লকডাউনে ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা। ঈদের আগে লকডাউন শিথিলও হতে পারে। তবে তাতে আপত্তি রাজ্যটির ইমামদের।

তাদের কথা, আগে মানুষ বাঁচুক, পরে উৎসব। এ জন্য ঈদের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন শিথিল না করার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন তারা।

চিঠির একটি অংশে লেখা রয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে অন্তত ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে দিন। আগে মানুষ বাঁচুক, তারপর উৎসব। আমরা এত ত্যাগ করেছি, আরও করব।’

বাংলার ইমাম সংগঠন জানিয়েছে, মুসলিম নেতৃত্ব এই প্রসঙ্গে সরকারের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু রাজ্যে সরকারের পক্ষ এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সব দিক বিচার বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।

Facebook Comments

Related Articles