চকরিয়ায় বৃদ্ধা মাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আছিয়া খাতুন নামের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে শারীরিক নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র আজ সোমবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জমিদার পাড়ার। খবর পেয়ে গত ৯ মে পুলিশ ওই বৃদ্ধাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে মেয়ের জিম্মায় দেয় পুলিশ। পরে চিকিৎসার জন্য ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামে। সেখানে মেয়ের বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা চলছে বলে জানা গেছে।

নির্যাতিতা বৃদ্ধা আছিয়ার অভিযোগ, ছেলে আজিজুল হক আলম চট্টগ্রাম বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি (আছিয়া) নিজেও স্বাস্থ্য বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত মাঠকর্মী। তার প্রয়াত স্বামী লেদু মিয়াও পুলিশের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি পেনশানের টাকা দিয়ে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু পেনশানের টাকা ও নিজের জায়গা লিখে না দেওয়ায় প্রতিনিয়ত তাকে শারীরিকভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছিল ছেলে আজিজুল হক আলম। এমন কি ছেলের কথা মতো না চলায় তাকে শারীরিকভাবে মারধর করে বাড়িতে একনাগাড়ে ১১ দিন আটকে রাখা হয়। পরে মেয়ে সাদিয়া জন্নাত নেলী বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের হটলাইন ৯৯৯ এ ফোন করেন।

ওই নারীকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করতে যাওয়া হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) পারসিত চাকমা কালের কণ্ঠকে জানান, গত ৯ মে ৯৯৯ এ ফোন করার পর চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে তিনি সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে হারবাং জমিদার পাড়ার বাড়িতে যান। এ সময় একটি কক্ষ থেকে বৃদ্ধা নারী আছিয়াকে উদ্ধার করে মেয়ের জিম্মায় দেন।

তবে পুরো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার হচ্ছে দাবি করে অভিযুক্ত ছেলে আজিজুল হক আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে একজন প্রতিবন্ধী। আমার এক পা অবস হওয়ায় হাঁটতেও পারি না। এত বছর ধরে মা আমার বাড়িতেই ছিল। কিন্তু আমার অধিকার তথা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই বোন সাদিয়া জন্নাত নেলী, তার স্বামী চট্টগ্রাম আদালতের পেশকার ও অপর সৎভাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের কাহিনী ছড়িয়ে আসছেন। একইভাবে এবারের ঘটনাটিও এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে সবাই আমাকে ঘৃণা করে। আসলে আমি মাকে শারিরিকভাবে কোনো ধরণের নির্যাতন করিনি।’

তাহলে শরীরে আঘাতের দাগ দেখা যাচ্ছে কেনো, এমন প্রশ্নে আজিজুল হক আলম বলেন, ‘আমার মা শারীরিকভাবে একেবারেই দুর্বল। তিনি প্রতিনিয়ত বাথরুমসহ এখানে-ওখানে পড়ে আঘাত পেয়েছেন। কিন্তু মেয়ের (বোন) কথামতো সেই আঘাত আমি করেছি বলে চালিয়ে দিয়ে অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা করছেন আমার মা। আমিও একজন সন্তান হিসেবে আমার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে এই পর্যন্ত মা-বাবার পেনশান এবং জমিবিক্রির প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন বোন। এনি য়ে স্থানীয়ভাবে অনেক শালিস-বৈঠকও হয়েছে।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃদ্ধা আছিয়ার ওপর এমন ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় বৃদ্ধাকে মেয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সহায়-সম্পদ নিয়ে তাদের মধ্যে এই সমস্যা লেগে আছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় থানায় মায়ের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি পুঙ্খানুপঙ্খ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments

Related Articles