১৯২৬ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত; ঘনবসতির ব্যারাকের বিকল্প ভাবা জরুরী

করোনাভাইরাসে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৮ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯২৬ জনে।

বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ৯০৭ জন।
ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দু’জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন।

সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১ হাজার ১৫৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬১ জনকে। এ পর্যন্ত ২৯৮ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। করোনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের ৭ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন।

সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা কিছুদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, পুলিশিং একটি ইউনিক প্রফেশন। এই প্রফেশনে থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার যে সুযোগ রয়েছে, তা অন্য কোনো প্রফেশনে নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এআইজি মো. সোহেল রানা সম্প্রতি ফেসবুকে লিখেছেন, “ব্যারাকে বা পুলিশ লাইনসে চিরাচারিতভাবে অল্প পরিসরে অনেককে থাকতে হয়। প্রতিনিয়ত মান উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে। তবে হুট করে বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ব্যারাকে বা লাইনসে যারা অনেকে এক সঙ্গে থাকেন, এই এক সঙ্গে থাকা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

“আমরা চেষ্টা করেছি, সেখানে যারা থাকেন। তাদের সামাজিক দুরত্ব বাজায় রাখার জন্য। তা আমরা করেছিও স্বাস্থ্য বিধি মেনে থাকার জন্য। তারপরও পেশাগত কারণে বাড়তি কিছু ঝুঁকির মধ্যে সব সময় থেকে যাই। এই কারণে বাংলাদেশ পুলিশের সংক্রমণের হার একটু বেশি। যেহেতু আমাদের ঝুঁকি বেশি, আমরা ঝুঁকি নিচ্ছিও।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাস্তায় পুলিশকে থাকতে হচ্ছে তাই ঝুকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবে এই ঝুকি আরো বেড়ে যায় যখন সবাই একসাথে ব্যারাকে থাকে, একই গাড়িতে যাতায়াত করে। যেহেতু আবাসিক হোটেলগুলো খালি পড়ে আছে, সেসব পুলিশ সদস্যদের জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া বড় গাড়ির পরিবর্তে ছোট গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। থানায় জব্দ থাকা গাড়ি বা মোটরসাইকেল গুলোকে আপদকালীন সময়ে কাজে লাগানো যেতে পারে। পুলিশকে উন্নত মানের মাস্ক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। এই গরমে পিপিই পরে কাজ করা অত্যন্ত কষ্টকর, তাই কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা জরুরী।

Facebook Comments

Related Articles