নিজের করোনা টেস্ট করতে দিয়ে অন্যদের টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক দম্পতি

প্রথম ছবিটা দেখে পুরো রুপকথার রাজা রাণী  লাগছে, তাইনা?
আসলেই তাই।
কিরন আর রেজোয়ানা।
দুজনেই ডাক্তার।
সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের আদরের সন্তান।
পাশ করে নিজেদের ডাক্তারি চলছিল ভালোই, এরমধ্যেই উচ্চ শিক্ষার প্রস্তুতি চলছিল। ভালোই যাচ্ছিল দিনকাল।
এর মধ্যে হুট করে করোনা প্রকোপ।
ডা. কিরন এবং ডা. রেজয়ানা দুজনেই নিয়মিত ডিউটি দিয়ে যাচ্ছিল – এর মধ্যে ডা. কিরনের হালকা জ্বর।
কিছু লক্ষণ তার কাছে সন্দেহের লাগল।
নিজেই নিজেকে হাসপাতাল এর এক রুমে বন্দী করল। বাসায় কাউকে জানায় নি।
এর মধ্যে সারাটা দিন খাওয়া হয়নি তেমন কিছু।
এক ইন্টার্নে র সেহেরি র খাবার টা তাকে দেয়া হল, কোন রকমে খাবার পর মনে হলো- এভাবে চলতে দেয়া যায়না।
বাসায় জানাবার পর খাওয়া দাওয়ার সমস্যা মিটলেও টেস্ট করবার জন্য স্যম্পল দেয়া যাচ্ছিল না কোন ভাবেই।
কিভাবে দেবে সে- নিজে যেহেতু চিকিৎসক, সে জানে কত শত রোগি আর সে তুলনায় সাপ্লাই এর কত অভাব। রাত দিন এক করেও স্বাস্থ্যসেবা র কাঠামো ঠিক রাখা যাচ্ছেনা।
বাসায় আসলো কিরন।
চিলেকোঠায় বন্দী।
প্রিয়তমার সাথে কথা হয় – ভিডিও কলে।
পরের ছবি টা তখন কার ই।
কিরনের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।

আমি জানি, ওদের দুজনের মনের অবস্থা কি।

কিরন করোনা ভাইরাস টেস্টের স্যাম্পল দিয়েছে।
রিপোর্ট যাই আসুক, কিরনের শরীর অনেক দুর্বল এবং সে জানে রিপোর্টে কি আসতে পারে।
রেজোয়ানা ও জানে।
এরপর ও তারা দুজনেই রাত দিন টেলিমেডিসিন এ DHAKA CAST It’s all about Diabetes হয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রোগিরা আমাকে জানাচ্ছে কিভাবে তারা তাদের চিকিৎসা য় ভাল হচ্ছে।
ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফোনে বা পেজে মেসেজ দিয়ে।
আমি আসলে খুব ভাগ্যবান যে পথ চলতে কিছু অসম্ভব রকমের ডেডিকেটেড ডাক্তার (পড়ুন কসাই(!) ) এর দেখা পেয়েছি- যারা নিজের অসুস্থতাকে তোয়াক্কা না করে রোগিদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে ।
এবং রোগি রা জানেও না যে তাদের চিকিৎসক নিজেই সেই ভয়ানক ভাইরাসে আক্রান্ত। এত টাই মনোবলের সাথে কাজ করে যাচ্ছে তারা।
হ্যাটস অফ তোমাদের।
মহান আল্লাহ পাক তোমাদের মংগল করুন।

ডা. ফাহরিন হান্নান

Facebook Comments

Related Articles