চিকিৎসককে ফেলে গেল এয়ার এম্বুল্যান্স, ভিন্ন ভিন্ন রকম বক্তব্য

নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন থাকা ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাফর হোসাইন রুমিকে করোনা সন্দেহে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় নিয়ে যায়নি।

ফলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন শিশু রোগ বিভাগের এই মেডিক্যাল অফিসার। রোববার (১৭ মে) বিকেল ৫টায় আগ্রাবাদ বহুতলা কলোনির মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুইদিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাফর হোসাইন প্রথমে কেবিনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় শনিবার (১৬ মে) দুপুরে। এরপরও স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় ঢাকায় নেয়ার জন্য রোববার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কল করা হয়। বিকেলের দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এসে মাঠে অবস্থান নেয়। এসময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওই চিকিৎসককে তোলার সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষ জানতে পারে তার করোনার লক্ষণ আছে। পরে তাকে না নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি চলে যায়।

সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসক ফেসবুকে লিখেন, “ডাক্তার রুমি হোসেন ভাইয়া করোনা আক্রান্ত হয়ে আগ্রাবাদ মা-ও-শিশু হাসপাতাল এ ICU তে ভর্তি আছেন, উনার অবস্থা অনেক খারাপ, সেজন্যে উনাকে তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলের আইসিউ তে পাঠানোর জন্যে এয়ার এম্বুলেন্স যখন বহুতলা কলোনির মাঠে উপস্থিত হয়, তখন সেখানের এলাকাবাসী রা উনাকে এই হেলিকপ্টারে উঠতে দেয়নি, কারন তাদের মতে এতে নাকি সেই এলাকাবাসী দেরও করোনা হবে, এই হেলিকপ্টার নাকি করোনা আক্রান্ত, উনাকে হাসপাতাল থেকে রাস্তা দিয়ে বহন করে হেলিকপ্টার পর্যন্ত আনতে নাকি সারা এলাকা করোনা আক্রান্ত হবে?”

মা ও শিশু হাসপাতালের দায়িত্বরত ডা. রবিউল মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান, ডা. জাফর হোসাইনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য আবারও নমুনা নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

তিনি জানান, গতকাল অবস্থার অবনতি হলে আজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কল করা হয় ঢাকায় নেয়ার জন্য। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি এসে যখন জানতে পারে ডা. জাফর হোসাইনের করোনার লক্ষণ আছে তখন তাকে না নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চলে যায়।

‘তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০/৯২ এর উপরে না উঠায় মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাও দেয়া যাচ্ছে না। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।’

তবে এ বিষয়ে বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি রাত হয়ে যাওয়ার কারণে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে যায়নি।

এলাকাবাসীর বাধা দেওয়ার ব্যাপারটি সত্য নয় বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা৷ তবে সেই এয়ার এম্বুল্যান্স ফেরত যাওয়ায় চিকিৎসককে এখন পর্যন্ত ঢাকা আনা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments

Related Articles