এই গরমে বায়ুনিরোধক পিপিই পরে স্বজনহীন ঈদ তাদের

ইফতেখারুল আলম। নিয়োগ পেয়েই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন তিনি। থাকছেন হোটেলে। ঈদেও পাচ্ছেন না পরিবারের সান্নিধ্য। এক শহরে থেকেও যেন দূর দেশের বাসিন্দা তারা। তবুও সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে গর্ববোধ করেন তিনি। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা নবীন এ চিকিৎসক বললেন, ‘চিকিৎসাসেবা দিয়ে রোগীদের মুখে যদি একটু হাসি ফোটাতে পারি, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এটাই আমাদের ঈদ আনন্দ।’

গরম ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় গরম অনুভব হয় আরো বেশি। সামান্য মাস্ক পড়লে যেখানে ঘেমে যায় মানুষ সেখানে বায়ুরোধী পিপিই পরেই কয়েকমাস ধরে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সরকারি হাসপাতালে এসি দূরের কথা, কোথাও কোথাও মাথার ওপরের পাখাটাও ঠিকঠাক ঘুরে না। আর পাখার বাতাস পিপিই ভেদ করতে সক্ষম নয়। সারাদেশের চিকিৎসকদের ঈদের পোশাক থাকবে এই পিপিই-ই। সারা দেশেই কোভিড হাসপাতাল বা নন কোভিড সবাইকেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে আবার নিজের নিরাপত্তায় পিপিই পরতে হচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তায় থাকতে হচ্ছে অন্য কোথাও।

প্রতি ঈদেই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি রোস্টার থাকে। সে অনুযায়ী তারা কাজ করেন। কোনও ঈদেই হাসপাতাল বন্ধ থাকে না, তবে রোগী কম থাকার কারণে কাজটা সীমিত হয়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কোভিড-১৯-এ থমকে গেছে বিশ্ব। বাংলাদেশেও দিনকে দিন বাড়ছে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা, বেড়ে চলেছে মৃত্যু। তাই হাসপাতালগুলোতে এবারেই অন্য পরিবেশ। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা একে মানসিকভাবে ‘অ্যাচিভ’ করে নিয়েছেন। চিকিৎসকরাও ঈদের দিনকে আলাদা করে কিছু অনুভব করছেন না।

কোভিড ডেডিকেটেড একাধিক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই সময়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। ঈদের ছুটির কথা চিন্তা না করে বরং মহামারির এই সময়ে কী করে রোগীর সেবা করা যায় সেটাই তাদের কাছে মুখ্য। কেউ কেউ বৈশ্বিক এই মহামারিতে রোগীদের পাশে থাকাকে নিজের সৌভাগ্য বলেও ভাবছেন। নিজেদের ডেডিকেশন প্রমাণ করার সময় এটাই, বলছেন তারা।

রাজধানীতে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সরকার ১৩টি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল। এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন ও পুরনো বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটকে ব্যবহার করা হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য।

সরকারি হাসপাতালগুলো হচ্ছে– কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল, মিরপুরের লালকুঠিতে অবস্থিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো হচ্ছে– রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে অবস্থিত সাজিদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইমপালস হাসপাতাল। এর মধ্যে ইমপালস হাসপাতালে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের চিকিৎসা হচ্ছে।

তবে সারাদেশেই উপজেলা পর্যায়ে চালু আছে করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থা। আর সারাদেশেই ছড়িয়ে আছে করোনা রোগী।

Facebook Comments

Related Articles

Close