অথচ চাইলেই তারা বানিয়ে ফেলতে পারতেন টাটার মত বিশাল এক হাসপাতাল

ভারতে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল বা নারায়ণা হেলথ্ সিটির মত বিশাল বিশাল স্বাস্থ্য খাতের কাজ হচ্ছে বেসরকারি খাতের হাত ধরে বা কোন শিল্পপতির হাত ধরে। ধনীদের চ্যারিটির মাধ্যমে গরীবদের জন্য উন্নত হাসপাতাল পরিচালিত হয় বিশ্বজুড়েই। আমাদের দেশে ঠিক উল্টো, এখানে বেসরকারি হাসপাতাল খোলার উদ্দেশ্য জনসেবার থেকে বেশি ব্যবসায়িক। আস্থাও অর্জন করতে পারেনি বেসরকারি সেক্টর। তাই উন্নত সেবার আশায় ধনী মধ্যবিত্ত সবাই ছুটে বিদেশ। এখন বিদেশে যাওয়ার পথ বন্ধ, দেখা যাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নগ্নরূপ।

চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী গ্রুপ পরিবারের প্রায় সকল সদস্য কোভিড১৯ এফেক্টেড। যাদের আছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। চাইলে তারা ডজনখানেক কোকিলাবেন ধীরুভাই হসপিটাল কিংবা বামুনাগ্রাদ হসপিটাল বানানো কোন ব্যাপার ছিলো না। অথচ আজকে তাদের নিজেদের মধ্যে আইসিইউ বেড শাফলিং করতে হলো। লোকমুখে প্রচলিত এক ভাই ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে এডমিট হলে ভেন্টিলেটর দেওয়ার প্রয়োজন হলেও কোন ভেন্টিলেটর খালি ছিল না ঐ মুহুর্তে । সবগুলোই বুকড রোগি দিয়ে। কিছুটা ইমপ্রুভের দিকে যাওয়া আগে থেকে এডমিট আরেক ভাইকে নামিয়ে দিয়ে তাকে দেওয়া হয়। যদিও বাচেন নি শেষ পর্যন্ত। বেচে থাকতে উনাদের মত ম্যাগনেটরা এদিকে নজর দেন নি। কিছু হলেই উড়াল দিতেন। কি নির্মম পরিহাস টাকার বস্তা কাজে আসলো না আজ।

কতো অপ্রতুলতা, কতো সীমাহীন দুর্নীতিতে চলতো এই হেলথ সেক্টর। সিম্পলি টারশিয়ারি হসপিটালে শীতকালে ৭/৮ টা রোগির রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস শুরু হলে সবাইকে একসাথে অক্সিজেন কিংবা নেবুলাইজ করা যেতো না। কারন আছেই দুইটা নেবুলাইজার মাত্র, তাও ফার্মা কোম্পানির গিফট। শাফলিং করে দেওয়া হতো, ৫ মিনিট দিয়ে খুলে ফেলে আরেকজনকে। অসহায় রুট লেভেলের রোগিটার দিকে তাকানো যেত না।

লিখতে গেলে অনেক কিছুই লেখা যায়। আজ পর্যন্ত কেউ আওয়াজ তোলে নাই যে সরকারি হসপিটালে দুপুর ১টার পর কেন ইনভেস্টিগেশন হয় না? রাতে সিম্পল ডায়রিয়া জনিত রোগির ইউরিন আউটপুট নিল নিয়ে আসা রোগির তৎক্ষনাৎ ক্রিয়েটিনিন হবে না কেন? কোন যুক্তিতে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে? ডাক্তারকে দুটো গালি দিলে বরং সুখ পাওয়া যায়।

প্রাইভেট হেলথ সেক্টর মানেই ফটকাবাজি এদেশে। হার্ট ফাউন্ডেশন কিংবা পাহাড়তলী আই এর মতো কোয়ালিটি সার্ভিস দেওয়া ইন্সটিটিউট হাতে গোনা কয়েকটা। বেশিরভাগ সার্ভিসের তুলনায় বিলিং করে মাত্রা তিরিক্ত। লাখ টাকা বিলিং করে স্টাফদের স্যালারী দেয় না ঠিকমতো। পাশ করে বের হবার পর দালাল দিয়ে রোগী ভাগানো দেখে নিজেরে নিজের প্রতি ঘেন্না লাগে। আনফিট মনে হয় প্রতিনিয়ত এই প্রফেশনে।

করোনা এসে স্রেফ নাঙ্গা করে দিছে। এরপরো আশা নিরাশার স্বপ্ন দেখি করোনা পরবর্তী হেলথ সেক্টরকে ভেঙ্গেচুরে নতুন করে গড়া হবে৷ যেখানে সবার একাউন্টেবিলিটি থাকবে।

মূল লেখকঃ কাজী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান

Facebook Comments

Related Articles