যার গানে পূর্নতা পায় বাঙালির ঈদ, তাঁর জন্মদিনটা এবার ঈদের দিনেই

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’, গানটি বাংলাদেশে যেন ঈদ উৎসবের আবহ সঙ্গীত হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখা গেছে এমন ঘোষণার সাথে সাথেই পাড়ায় মহল্লায় প্রথমেই শোনা যায় হৈ হুল্লোড়। আর তার পরপরই টেলিভিশন ও রেডিওতে বাজতে শুরু করে এই গানটি। এই গানটি না বাজলে ঠিক ঈদ বলে মনে হয়না। গানটির স্রষ্টা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন ২৫ মে। দিনটি এ বছর ঈদের দিন। ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

কবি কাজী নজরুলের ইসলামি গান রচনার শুরুটা একেবারেই মসৃণভাবে ঘটেনি। প্রখ্যাত লোক-সংগীত শিল্পী আব্বাস উদ্দীন আহমদের অনুরোধে তিনি ইসলামি গান লেখা শুরু করেন। নজরুল তখন এক গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আব্বাস উদ্দীনের উৎসাহে কবি ইসলামিক গান লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন। তবে ওই গ্রামোফোন কোম্পানির মালিক ভগবতী ভট্টাচার্য এর মতও নিতে হবে। এই দায়িত্ব নিলেন আব্বাস উদ্দীন। তবে মালিক সোজা না করে দিলেন। এ ধরনের রেকর্ড বের করে তিনি লোকসান করতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দেন!

আব্বাস উদ্দীন ভগবতী বাবুর পেছনে লেগেই রইলেন। জানালেন, অন্তত একটা গান পরীক্ষামূলকভাবে বের তো করা যেতেই পারে। আর যদি গানটি বিক্রি না হয়ে তবে ইসলামিক গান আর নেবেন না, ক্ষতি কী? এভাবেই নাছোড়বান্দা হয়ে ভগবতী ভট্টাচার্যকে রাজি করান আব্বাস উদ্দীন। আর এই সুসংবাদ জানতেই খাতা কলম নিয়ে ইসলামিক গান লিখতে বসে পড়লেন কবি নজরুল। কোন গানটি জানেন? ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’

এই গানের পরদিনই নজরুল আরেকটি গান রচনা করে দেন, ‘ইসলামেরই ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর।’ গান দুটো ১৯৩১ সালের নভেম্বরে রচিত ও সুরারোপিত হয়। পরের বছর রমজান মাসে ধারণ করা হয়। ঈদের আগেই গানটি বাজারে প্রকাশ করা হয়। আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠে নজরুলের লেখা বিখ্যাত দুটি ইসলামিক সঙ্গীত ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি বাজারে প্রকাশের পর দেখা গেলো, রেকর্ডটি সুপার-ডুপার হিট করেছে।

ছেঅট থেকে বড় সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ‘এলো খুশির ঈদ’ গানটি। নজরুল আসলেই ইসলামি গানের রেকর্ড নিয়ে বেশ উত্তেজিত ছিলেন। তার অন্যান্য গানের মতো ইসলামি গানও সফল হওয়ায় তার চোখে মুখে আনন্দ ভেসে ওঠে। ওদিকে ভগবতী বাবুও খুশি। প্রকাশনার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই হাজারো রেকর্ড বিক্রি হয়ে গেছে। এবার সেই ভগবতী ভট্টাচার্যই কবিকে অনুরোধ করলেন এরকম আরো কয়েকটি ইসলামি গান রচনার জন্য! এভাবেই শুরু হয়লো নজরুলের ইসলামি গান রচনার অভিযাত্রা।

ছবিঃ সংগৃহীত

Facebook Comments

Related Articles

Close