পানিতে নামাজ ষড়যন্ত্র? সেখানকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কি বলছেন?

“খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামায়াত নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে সেটা সবার সামনে তুলে ধরা উচিৎ বলে আমি মনে করি কেননা এটা নিয়ে অনেকেই না জেনে অনেক ধরনের মন্তব্য করছেন।

বিগত ২০ শে মে ২০২০ সুপার সাইক্লোন আম্পানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার একটি কয়রা উপজেলা।এই সাইক্লোনে মানুষের ঘর, গাছ ডহ অনেক কিছু ভেঙ্গে যায় এবং সবথেকে বড় বিষয় উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়, ২২শে মে থেকে বাঁধ বাধার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু ভাঙনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় জোয়ার আসলে সেটি আবারও ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য ঈদের দিন সবাইকে বাঁধে কাজ করার জন্য আসতে বলা হয় এবং সেখানেই ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।ঈদের দিন প্রায় ৫ হাজার লোক সেখানে উপস্থিত হয় এবং নামাজ আদায়ের পরে উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে সকালে সেমাই ও কাজের পরে খিচুড়ি মাংস দেয়া হয়।কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

প্রথমত, নামাজ যিনি পড়াইছেন উনি জামায়াতের একজন নেতা ও সাবেক দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান, শুধুমাত্র এটাই নয় তার ভাই কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। কিন্তু ইমামের পিছেনে তাকালেই দেখতে পাবেন চশমা পরা একজন ব্যক্তি এবং যিনি তাকবীর দিয়েছেন তিনি কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাবেক দুইবারের কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমান কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া প্রথম সারিতে যারা দাড়িয়েছে তাদের অধিকাংশ উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা।কয়রা-পাইকগাছা সংসদীয় আসনের পরিসংখ্যান দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন এখানে জামায়াতের আধিপত্য ছিলো, এজন্য চেষ্টা করেছে সকলে মিলে কাজ করার।সম্পূর্ণ কাজটা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হয়েছে।যদিও তিনি জামায়াতের নেতা কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও সকলের নিকট পরিচিত হওয়ায় তাকে ইমাম করা হয়, যেহেতু এইখানে সবদলের লোক ছিলো এজন্য অন্য পক্ষকে খুশি করে সবাই মিলে কাজটা করার প্রচেষ্টা মাত্র।

দ্বিতীয়ত, নামাজ কেনো পানিতে পড়া হলো। ওইখানে যে জায়গা ছিলো তার বেশিরভাগ জায়গায় পানি ছিলো, আর পিছনে যে উঁচু জায়গা সেটা বেড়িবাঁধ, ঔখানে পাশাপাশি ২-৩ জনের বেশি দাঁড়ানো যায়না, আর ওই বাঁধ এতটাই দুর্বল যে বেশি মানুষ দাড়ালে যে বাঁধটুকু বাকি আছে সেটুকুও ভেঙ্গে যাবে,কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ যে রাস্তাটা শুকনা ছিলো সেখানে নামাজ পড়ছে কিন্তু একটা ছবি ভাইরাল হওয়ায় অন্য ছবিগুলো আপনারা দেখেননি এবং প্রায় ৫ হাজার লোক হওয়ায় রাস্তায় সংকুলান হওয়া সম্ভব ছিলো না।

তৃতীয়ত, তারা কেন মসজিদে বা অন্য জায়গায় নামাজ পড়েনি এবং সামাজিক দুরত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেছে অনেকেই। প্লাবিত এলাকার একটা মসজিদে নামায পড়ার মতো অবস্থা নেই।অন্য জায়গা বা মাঠের কথা যারা বলেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি নামায পড়ার জন্য যে জায়গা আছে সেখেনে নামাজ পড়ে বাঁধে যাইতে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা লাগবে আর ততক্ষণে জোয়ার শুরু হবে এবং পানি বৃদ্ধি পাবে তখন বাঁধ দেওয়া অসম্ভব। এমনকি জোয়ারে বিগত কয়েকদিনে দেয়া বাঁধও কিছুটা ভেঙ্গে গেছে।সুতরাং অন্য কোথাও নামায পড়ে বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব ছিলোনা।
সামাজিক দুরত্ব নিয়ে যারা বলছেন, ভাই থাকার জায়গা আর পেটে ভাত না থাকলে করোনার কথা আপনারও মনে থাকবে না।ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে এবং সবথেকে বড় অর্থনৈতিক সাপোর্ট মাছের ঘেরে পানি ঢুকে সাদা মাছ মরে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে পানি।এই অবস্থায় আপনি যখন সামান্য খাবার পানির জন্য পথ চেয়ে থাকবেন কখন সেনাবাহিনী পানি নিয়ে আসবে বা ৫ কিলোমিটার নৌকা চালিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হবে তখন করোনার কথা মনে থাকবে না। আর কয়রায় এখনো কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি এবং এখন চারিদিকে পানি থাকায় বাইরের মানুষ খুবই কম আসতে পারছে।

অন্য একটি বিষয় হলো যে ব্যক্তি ছবি তুলেছে তার শিবির সংশ্লিষ্টতা আছে।আজাদ নামে যে ব্যক্তি ছবি তুলেছে তার সম্পর্কে আমি জানিনা এবং ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। এজন্য তার সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না।কিন্তু ছবি অনেকেই তুলেছে, তার ছবি ক্যামেরায় তোলা ছিলো এজন্য বেশিরভাগ মানুষ তার ছবি নিছে।অন্যদের মোবাইলে তোলা ছিলো।

এরপরেও কারো কোনো বিষয়ে জানার থাকলে কমেন্টে বলতে পারেন অথবা উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো বন্ধু বা আত্মীয় থাকলে তাদের থেকে জানতে পারেন।
শুধু এটুকুই বলবো ২৫ শে মে ২০০৯ এ আইলায় যে ক্ষতি হয়েছিলো কয়রার সেটা যখন কাটিয়ে উঠেছে তখন ২০ শে মে ২০২০ আম্পানে সেই স্বপ্ন লোনাজলে ভাসিয়ে দিয়েছে।”

লিখেছেন শরিফুল ইসলাম রেজা
কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
মাস্টারদা সূর্যসেন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

“আর একটা কথা,আপনারা কি জানেন আম্ফান ঝরে কয়রায় কয়টি গ্রাম প্লাবিত? কত হাজার পরিবার পানি বন্ধি?কত লক্ষ মানুষ না খেয়ে আছে? আপনি কি জানেন কত শত মসজীদ, মন্দীর, ভেংঙ্গে চুর – মার হয়ে গেছে? আপনারা কি জানেন নদীর জোয়ার ভাটার খেলা? আপনি কি জানেন নতুন কাঁচা মাটির রাস্থার উপরে হাটা চলা করা জায় না,এটার জন্ন মাটি ধসে পর?
আপনারা ত কয়রা সম্পর্কেই জানেন না।তাহলে কয়রা নিয়ে লিখতে বসছেন কোন আন্দাজে?”

যোগ করছেন মোঃ রায়হান কবির চঞ্চল। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগ

“যতটুকু তথ্য পেয়েছি ঐ এলাকার ছাত্রলীগের বর্তমান সাবেক কয়েকজনের কাছ থেকে তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় নামাজ পড়া পর্যন্ত ওখানে রাজনীতি কাজ করেনি শতকরা ৯৯% মানুষের মধ্যে। অর্থাৎ সাধারণ গ্রামবাসী ছিলেন বাঁধ গড়ার জন্য মানবিক। এই হিসাব করে দুদিন আগ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। সবার জন্য সেমাই, খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবাই কে উক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য কিছু ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঐ এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয়। এছাড়া আরও বেশকিছু মেম্বার, চেয়ারম্যান সাবেক বর্তমান ও ছিলেন যতটুকু জেনেছি।

যাইহোক, ঈদের দিন ফজরের নামাজ পরে সবাই কে আসার জন্য আহবান জানানো হয়। সেই হিসাবে দলে দলে গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সকাল ৬ টার মধ্যে এসে কাজ শুরু করেন। কারন ৬ টা থেকে দশটা পর্যন্ত সম্ভবত ভাটা থাকে। বাঁধ নির্মাণ করতে হলে এর মধ্যেই করতে হবে। সেই হিসাবে কাজ শুরু করা হয়। তবে বলে রাখা ভালো বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাটা মানে কিন্তু আগের মতন না।

এখন ভাটা থাকলে পানির অবস্থা আগের থেকে অনেক উন্নত। কয়েক হাজার মানুষ হাতে হাতে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মানের কাজ করেছে আর একটা গ্রুপ এতগুলো মানুষের জন্য সেমাই ও খিচুরির ব্যবস্থা করেছেন। এই সকল কার্যক্রমের সাথে উপজেলা প্রশাসন সব সময় সার্বক্ষণিক ভাবে নিয়োজিত ছিলেন বলে তথ্য পেলাম।

যাইহোক পবিত্র রমজানের শেষে ঈদের নামাজ সকল মুসলমানদের জন্য আবেগের ইবাদতের এবং আনন্দের ও বটে। সেই সাথে বছরে দুই বার সকল পর্যায়ের মানুষের এক সাথে মিলিত হওয়ার সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান এই ঈদের নামাজের ময়দান।

ইসলাম শরিয়ত মোতাবেক ঈদের নামাজ ফরজে আইন না এটা ওয়াজিব।নামাজ ফরজ না হলেও সামাজিক কারনে সম্প্রতির কারনে ধর্মীয় কারনে এই নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি বলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুগামীরা এখানে সকলে সমবেত হয়।তবে পরিস্থিতির কারনে নামাজ না পড়লে সমস্যা ছিল না যেহেতু এই নামাজ জামাতে না পড়লে আদায় হয় না সুতরাং জামাত করার পরিবেশ না থাকলে না পড়লেও হয়।

তবে ঘটনা পরম্পরায় কিছু প্রশ্ন এসে যায়। যেমন,

এক- ঈদের নামাজ পড়ার মতন শুকনো জায়গা কি আশেপাশে ছিল না?
দুই-নামাজ ভাটার সময় কেন পড়া হলো না?
তিন-সময় তো মাত্র ৫ মিনিট লাগে?
চার-জামায়াত করা একজন কে দিয়ে কেন ঈমামতি করানো হলো?
পাঁচ -নামাজ না পড়লে কি হতো?
বা ঐ খান থেকে গিয়ে সবাই ১১/১২ টার সময় নামাজ পড়লে কোন সমস্যা ছিল?

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে যা পেয়েছি – শুকনো জায়গা ছিল তবে এত লোকের এক সাথে নামাজ পড়ার জন্য ঐ খান থেকে কমপক্ষে দুই ঘন্টার পথে যেতে হতো।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর -সবাই কাজে মনোনিবেশ ছিলেন, নামাজের বিরতি দিলে অনেকেই চলে যেতো ফলে একবারে কাজ শেষ করে নামাজ পড়ে সেমাই খিচুড়ি খেয়ে সবাই চলে যাবে এজন্যই।

চার, উনি ঐ উপজেলায় দুইবার চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয় করেই বয়সে প্রবীণ এবং ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানী বলে তাকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়(তাদের মধ্যে কোন রিলেশন থাকতে পারে)।

পাঁচ নম্বর প্রশ্নের উত্তর আসলে তখন ঐ এলাকার মানুষের মধ্যে এত সাজানো গোছানো চিন্তা কাজ করেনি, কে ষড়যন্ত্র করতে পারে পারে না,কি ভুল হচ্ছে এসব নিয়ে এত ভাবার সময় ছিলো না।শতকরা ৯৮% মানুষ কোন না কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই বাসায় রান্না না করে রাস্তা বা কোন উচু জায়গায় খুব কষ্ট করে রান্না করে খেয়ে টিকে ছিলেন।ঘের বাড়ি ভেসে গিয়ে মাছ সব শেষ, ফসল শেষ সুতরাং গ্রামের সহজ সরল মানুষের মনে এসব ছিলো না। তাদের মাথায় একটা বিষয় কাজ করেছে বাঁধ নির্মাণ করে আগে পানি সরাতে হবে এতটুকুই।

আমার ব্যক্তিগত মতামত কখনো কখনো মানুষ দূর্বিপাকে পড়লে দূর্যোগে পড়লে সেখানে সকল রাজনীতি নোংরামি শূন্য হয়ে যায়। তখন একটা বিষয় কাজ করে তা হলো কিভাবে বাঁচতে হবে।
ঐ এলাকায় ঐ সব মানুষের মাঝে তখন কে কোন দল কে কোন রাজনীতি করে এটা কাজ করে না।মানুষের টিকে থাকার লড়াই মূখ্য। পদ্মা নদীর মাঝি পড়লে চমৎকার ভাবে এটা ফুটে ওঠে। এই ছিনেমার কোথাও আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়াত নাই আছে টিকে থাকার জীবন যুদ্ধের রং বে রং এর ছবি।
সুতরাং কয়রার মানুষ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ভুলে সবাই মিলে বাঁধ নির্মাণে নেমেছিলেন এটাই সত্যি বলে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা।

আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এই কয়রা উপজেলায় নিজে সফর করেছেন। তিনি গত দশ বছরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এই টাকার হিসাব দুদুক যদি উদ্যোগী হন তাহলে দেখা যাবে ঐ সব এলাকার জনপ্রতিনিধি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লুটপাট করে খেয়ে গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য বাঁধ কে মরণ বাঁধে পরিনত করেছেন।

রাষ্ট্র প্রধান শেখ হাসিনার কর্মকান্ড কে তারাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যারা তার দেওয়া বরাদ্দ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি, লুটপাট করেছে তারা। তবে কয়রার একজন পাগল হলেও সে বলবে শেখ হাসিনার আমলেই উন্নয়ন যতটুকু হয়েছে তার আগে নয়।

সব কথার শেষ কথা প্রচলিত কথা-এক মন দুধের মধ্যে এক ফোটা লেবুর রস।
এখানেও তাই হয়ে গেলো ইমামতির দায়িত্ব জামায়াতে নেতাকে দেওয়ার ফলে সব পরিশ্রম ভেস্তে গেলো।

জামায়াত কি আসলেই রাজনৈতিক সুযোগ নিয়েছে? সদর ইউনিয়নের গোবরা এলাকাটা মুলত জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। বেশিরভাগ মানুষই তাদের সমর্থক। কারন এখানে শিক্ষার মান কম এবং দারিদ্র্য বেশি এটাই জামায়াতের আসল পুঁজি।

ফলে জামায়াত ও শিবিরের একটা বৃহৎ সংখ্যক সমর্থক এই ঘটনার পিছে সুকৌশলে কলকাঠি নাড়তে পারে। হয়তো আওয়ামী লীগ সহ অন্যন্য রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা বুঝতে পারেনি। সরকারি কর্মকর্তারাও বুঝতে পারেনি এমন হতে পারে কারন জামায়াতে গোয়েন্দা টিম খুব কৌশলে কাজ করে। ফলে তাদের প্লাণ বাইরে যায়নি।

এখন জামায়াত সুযোগ নিলে নিতে পারে বা নিয়েছেন ও কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে ওদের রাজনৈতিক কোন লাভ হবে না এটা আমি শিওর। এই ঘটনা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব নয়।বরং মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি কয়রার মানুষ বেশি করে পেয়েছেন এই কারনে।
দেশের অধিকাংশ মিডিয়া এই নিউজ ইতিবাচক ভাবেই প্রচার করেছেন।

ছোটখাটো কিছু তথ্য হলো -উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি সময় টিভিতে পজেটিভ মন্তব্য করে বিবৃতি দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান যিনি যুবলীগের পরিক্ষিত নেতা সভাপতি ও তিনি ও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামী লীগের অনেকেই ছিলেন যেমন–

১,এস.এম শফিকুল ইসলাম – উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান
২, আক্তারুজ্জামান খোকন- কয়রা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।
৩,সরদার নাজমুস সাদাত – সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কয়রা উপজেলা আওয়ামীলীগ।
৪,মেহেদী হাসান দিদার-সাবেক সভাপতি কয়রা উঃ ছাত্রলীগ।
৫,আলাআমিন ইসলাম- সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়রা উঃ ছাত্রলীগ।
৬,সোহেল রানা সৌরভ – সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়রা উঃ ছাত্রলীগ।
৭, রায়হান কবীর চঞ্চল- সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কয়রা উঃ ছাত্রলীগ।
৭,ধীরাজ রায়, -আহবায়ক কয়রা উপজেলা তাঁতিলীগ ও সাধারণ সম্পাদক হিন্দু, বৌধ্য,খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
এছাড়াও অনেক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলো।

সবশেষে এই ঘটনা জামায়াত কি ফায়দা নিছে বা নিবে এটা আরও দুই একদিন পর বোঝা যাবে। তবে ঐ এলাকার ছাত্রলীগের অনেকেই বললেন ভাই এটা আমরাই বেশি করে প্রচার করেছি ওরা ফেসবুকে কিভাবে প্রচার করেছে তা নজরে আসেনি।

তবে একজনের একটা তথ্য আমার সাথে মিলে গেছে তা হলো -এটা প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল।
হা আমার শুরুতেই এমন ধারণা হয়েছিল দেশের মিডিয়া সরকার প্রধানের দৃষ্টিতে নেওয়ার জন্য এমন করতে পারে।

আম্ফান কিন্তু হওয়ার পরে ঐ এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বাঁধ নির্মানের ত্রুটি নিয়ে অনেকেই কোন স্ট্যাটাস দেয় নি মন্তব্য করেনি কিন্তু এটা নিয়ে সবাই আমরা সরব।

এরজন্য দায়ী ঐ এলাকার কিছু দুষ্টচক্র জামায়াতে লোকজন। একটা সুন্দর বিষয়কে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।ওদের এই অপরাজনীতির ইতিহাস সুদীর্ঘ কালের। সব জায়গায় এসে নাক গলিয়ে একটা সুন্দর কে কালিমালিপ্ত করে দেয়। আবার আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের নোংরামি ও এখানে নেতিবাচক কাজ করেছে।

সামনের সারিতে সব আওয়ামী লীগের নেতারা বেশি তাছাড়া সকল নিয়ন্ত্রণ ও তাদের কাছে ছিল কিন্তু ঈমাম হয়ে গেলো জামায়াতের! ঐ খানে বা ঐ এলাকায় তিনি ভিন্ন আর কোন ইসলামি চিন্তাবিদ ছিলেন না?
তাকেই কেন নামাজের দায়িত্ব দিতে হলো?

প্রশ্ন ঐ এলাকার ইউএনও /ওসি /আওয়ামী আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি তাদের কাছে দুদিন ধরে মাইকিং করে যদি জামায়াত রাজনৈতিক কারনে এটা করে থাকে তাহলে আপনাদের ভুমিকা কি?
আপনারা কেন এটা ধরতে পারলেন না?”

মেহেদী হাসান রাসেলের ফেসবুক পোস্টের অংশবিশেষ।

Facebook Comments

Related Articles