৮২ তম দিনে অন্যদের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম, সুস্থতার হার বেশি

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এরপরই পাকিস্তান। এই দুই দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশেও সুস্থতার হার ওই দুটি দেশের কাছাকাছি। তবে মৃত্যুর হার ওই দুই দেশের চেয়ে কম।

বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট ‌‘কোভিড-১৯ ট্র্যাকার ডট জিওভি ডট বিডি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংক্রমণ শনাক্তের ৮২তম দিনে (২১ এপ্রিল) ভারতে মোট আক্রান্ত রোগী ছিলেন ২০ হাজার ৮০ জন। সুস্থ হয়েছিলেন ৩ হাজার ৯৭৫ জন। সুস্থতার হার ছিল ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে মৃত্যুর হার ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। আর গত বুধবার পর্যন্ত ভারতে সুস্থতার হার ৪২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সংক্রমণ শনাক্তের ৮২তম দিনে (১১ মে) পাকিস্তানে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৩২ হাজার ৮১ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছিলেন ৮ হাজার ৫৫৫ জন। ওই দিন পর্যন্ত সুস্থতার হার ছিল ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ছিল ২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বুধবার পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৫১। এর মধ্যে সুস্থতার হার ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর মৃত্যুর হার ২ শতাংশ।

ইউরোপ, আমেরিকার যেসব দেশে সংক্রমণ বেশি, সেসব দেশেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থতার হার বাড়ছে। ওই সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো মৃত্যুর হার কম। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মারা গেছেন ৫৫৯ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মৃত্যুর হার বেশি ইউরোপের দেশগুলোতে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ামে মৃত্যুর হার ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। ফ্রান্সে ১৫ দশমিক ৬, ইতালিতে ১৪ দশমিক ৩, যুক্তরাজ্যে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস। তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল বিকেল চারটা পর্যন্ত সারা বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৮ লাখ ৭ হাজার ১৬৬। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৫ লাখ ৯ হাজার ৮৫৭ জন। আর মৃত্যু হয় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৭ জনের। অর্থাৎ সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ষাটোর্ধ্বদের মৃত্যু বেশি। তবে বয়স্করা এমনকি শতবর্ষী ব্যক্তিও করোনা জয় করেছেন। বাংলাদেশেও এমন নজির আছে। ৮ মে সুস্থ হয়ে ঢাকার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন ৮৫ বছর বয়সী এক নারী। একই দিন সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন বাউফলের ৮০ বছর বয়সী এক নারী। এর আগে ৩০ এপ্রিল রংপুরে হাসপাতালে ৯ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন বদরগঞ্জের ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। ৩০ মার্চ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছিল, ওই দিন ৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের একজনের বয়স ৮০ বছর এবং দুজনের বয়স ৬০–এর বেশি।

আইইডিসিআরের পরামর্শক মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত যাঁদের বয়স বেশি এবং একই সঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, তাঁদেরই করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকিটা বেশি। যাঁদের লক্ষণ মৃদু এবং অন্যান্য রোগ নেই, তাঁদের সবার সুস্থ হওয়ার কথা। আবার বয়স বেশি হলেও অন্যান্য রোগ কম থাকা ব্যক্তিদের অনেকে বাসায় থেকেও সুস্থ হচ্ছেন। যাঁদের শ্বাসকষ্ট তীব্র, তাঁদের সুস্থ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। সুস্থতার হার যাতে আরও বাড়ে, সেদিকে জোর দিতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

Facebook Comments

Related Articles