খুলনায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু

খুলনায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি তানভীর আলম (৩১) মৃত্যুবরণ করেন। গত ২৮ মে বিকালে তানভীর আলমকে প্লাজমা থেরাপি (রক্ত রস প্রয়োগ) দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন খুলনায় প্রথম প্লাজমা থেরাপি নেওয়া রোগী।

খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তানভীর আলমের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তাকে করোনাভাইরাসের সব ধরনের চিকিৎসার পাশাপাশি প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়। প্লাজমা থেরাপিতে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু কোনও চিকিৎসাই কাজে দিল না। তাকে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক (যিনি সদ্য করোনা থেকে মুক্ত) প্লাজমা থেরাপি দিতে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করেছিলেন। মঞ্জুর আলম নামে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ওই চিকিৎসকের রক্ত থেকে রক্তরস নিয়ে তানভীর আলমকে দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, “এ প্লাজমার ফলাফল পেতে ৭২ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ সময় ছিল। রবিবার বিকাল পর্যন্ত এ পর্যবেক্ষণের সময় ছিল। কিন্তু তার আগেই সকালে তিনি মারা গেলেন।”

খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, প্লাজমা থেরাপির প্রক্রিয়া দু’টি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে কোভিড ১৯ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া রোগীর (কমপক্ষে ১৪ দিন আগে সুস্থ হয়েছেন) কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। কারণ একবার করোনায় পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি সুস্থ হলে তার শরীরে একটি করোনা ভাইরাসের এন্টিবডি তৈরি হয়। তুলনামূলক সুস্থ ও যুবক বয়সী ডোনারের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে এই প্লাজমা পরীক্ষার পর যথাযথ নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করা বা সাথে সাথে করোনা পজিটিভের দেহে প্রয়োগ করা হয়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তেও এন্টিবডি চলে আসে এবং তা করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

Facebook Comments

Related Articles