হলিক্রস কলেজে কেন পড়বো? পর্ব-১

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

প্রথম পর্বঃ পরিচিতি

অন্তর মম বিকশিত করো, অন্তরতর হে।
নির্মল করো,উজ্জ্বল করো,সুন্দর করো হে।।

কবিগুরুর এই বানীর মতোই নির্মল, উজ্জ্বল,সুন্দর মানসিকতা সম্পন্ন নারী গড়ে তুলতে ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর পাঁচ জন মাত্র ছাত্রী নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও এ শুরু হয়েছিল হলি ক্রস কলেজের অগ্রযাত্রা । বর্তমানে এটি বহুল পরিচিত ও অন্যতম একটি খ্রিস্টান মিশনারি কলেজ।
ফার্মগেটের ইট-পাথরের জঞ্জালের মাঝে ছোট এক টুকরো স্বর্গ এই হলি ক্রস কলেজ। সাদা দালান আর সবুজ গাছগাছালির সমারোহ দেখে মনে হয় পবিত্রতা এবং স্নিগ্ধতা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। কলেজের প্রতিটা ক্লাসরুম, করিডোর, ক্যান্টিন, বাস্কেটবল মাঠ – সব জায়গা যেন একেক টা সীমাহীন গল্পের পাতা যেখানে প্রতিদিন লেখা হয় হাজারো গল্প, হাজারো জীবনকাহিনী।

খ্রিস্টান মিশনারি কর্তৃক পরিচালিত হওয়ায় হলি ক্রস কলেজ সম্বন্ধে অনেকেরই ভুল ধারণা থাকে। কিন্তু হলি ক্রস নামক যাজকসংঘের সিস্টারদের দ্বারা পরিচালিত এ কলেজ নিঃসন্দেহে অসম্প্রদায়িকতা এবং নিজ নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এখানে হিন্দু,মুসলমান, খ্রিস্টান,বৌদ্ধ,আদিবাসী সহ বিভিন্ন ধর্ম,বর্ন ও জাতিসত্ত্বার মেয়েরা একসাথে চলেছে আত্মার বন্ধু হয়ে। হোক ইদ, পূজা,বৌদ্ধ পূর্ণিমা, কিংবা বড়দিন- ছুটি নিয়ে সিস্টারের এনাউন্সমেন্টে সবাইকে উল্লাস করতে দেখেছি। ইদ এর আগে ইদ মোবারক, দুর্গাপূজায় শুভ শারদীয়া, বড়দিনে Merry Christmas -সব শিক্ষক এভাবেই ছুটির আগে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছাত্রীদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন অসাম্প্রদায়িক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে। হলিক্রস কলেজে মেয়েদের নামায পড়ার যে সুব্যবস্থা দেখেছি তা হয়তো এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানেই পাওয়া যাবে না। নিজস্ব ধর্মচর্চায় কোনদিন কোন বাধা দেয়নি হলি ক্রস বরং আরো সুযোগ করে দিয়েছে।

৭০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে হলি ক্রস আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। অত্যন্ত আনুষ্ঠানিকতার সাথে ১৯৭৫ সালে কলেজের রজত জয়ন্তী এবং ২০০০ সালের কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হয়েছে। এছাড়া ২০১০ সালে ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সংসদ স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরি, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি সহ আরো সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, যারা নিজস্ব অবস্থানে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে কলেজ। পাঁচ জন মাত্র ছাত্রী নিয়ে যে ক্ষুদ্র অগ্রযাত্রা, তার পরিসর বর্তমানে অনেক ব্যাপক। বর্তমানে অর্ধ শতাধিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এখানে শিক্ষা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিলিয়ে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২৫০০।

এগিয়ে চলা শুধু শিক্ষা কার্যক্রমে নয়, হলি ক্রস প্রতিনিয়ত নিশ্চিত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব দেশে তথা সমগ্র বিশ্বে একজন সুযোগ্য,নেতৃত্বদানকারী, কর্তব্যনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে এগিয়ে চলা। কলেজে প্রথম দিনের শুরুতে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকানো কিশোরী মেয়েটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী।
সেই প্রথম দিনেই কলেজ থেকে পাওয়া “Yellow Hand Book” এ দেয়া থাকে তার করোণীয়,নিয়মকানুন ও শিষ্টাচার; যা প্রথম দিন অগ্রজেরা এবং পরবর্তীতে শিক্ষকমন্ডলী ধীরে ধীরে তাকে অনুধাবন করান। বইটিতে এক জন হলি ক্রসের শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য কেমন হবে তার বর্ননার শেষ ক্ষুদ্রাংশটি দেয়া হলো-
“সে হয় কর্তব্যনিষ্ঠ ও সত্যান্বেষী।
সে আনন্দের সাথে ভালোবাসে তার কাজ,
তার বিশ্ব, মানুষ এবং স্রষ্টাকে”


“হলিক্রস কলেজে কেন পড়বো?” এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের সিরিজের বাকি পর্ব গুলো শীঘ্রই আমরা নিয়ে আসবো এই সময়ের মাধ্যমে। সাথে থাকুন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাদেকা সুলতানা সেতু ও
রাবেয়া আক্তার স্বর্না

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles