ফিরে আসার গল্প – মাদককে না বলুন!!!

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২০

ধরুন, আপনার জীবন একটি নৌকা আর আপনি হলেন সেই নৌকার মাঝি। অর্থাৎ বৈঠা চালানোর দায়িত্ব এবং অধিকার শুধু আপনার। আপনি ই পারেন জীবন নামের এই নৌকাকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র ভাবে একটি সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে- তা হলো মাদক। এই একটি জিনিস ই যথেষ্ট আপনার নৌকাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে। ইতিমধ্যে অনেকেই হয়তো এই পথে এগিয়েছে কিন্তু কয়জনইবা পারছেন ফিরে আসতে? তাই আজ শোনাবো এক তরুণীর ঘুরে দাড়াবার গল্প।

বাদিকে- মাদকাসক্তির সময়, ডান দিকে- সুস্থ জীবন লাভের পরে (তরুণীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া ছবি)

ছবি দেখে হয়তো দুইজন তরুনী ভাবছেন।কিন্ত না, দুটি ছবি একই ব্যক্তির। বাদিকের ছবিটি হলো তার জীবনের কালো অধ্যায়ের ছবি, যাকে তিনি পেছনে ফেলে চলে এসেছেন। তিনি মেথ ও হিরোইন নামক মাদকের প্রতি আসক্ত ছিলেন। এতোটাই আসক্ত ছিলেন যে, তিনি রাস্তায় ঘোরাফেরা করতেন মাদকের খোঁজে। একটা তীব্র যন্ত্রনা আর ভীতির মধ্যে পাড় করছেন সেই সময়টি। শুধু তাই নয়। তার দেখা দিয়েছিলো “এন্ডোকার্ডিটিস” নামক হৃদরোগ। এটি মূলত হৃদপিন্ডের ভেতরের স্তরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনের জন্য হয়ে থাকে। আর এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছিল অধিক পরিমাণ মাদক গ্রহনের কারণেই। এছাড়া তার হৃদপিন্ডে ছিদ্র ও দেখা দিয়েছিলো। তার মা তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করার সময় ছবিটি তুলেছিলেন।

এই একই তরুণীর আরেক রূপ দেখা যাচ্ছে ডান দিকের ছবিটিতে। এখানে তিনি তার বৈঠাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছেন। ফিরে পেয়েছেন তার নৌকার নিয়ন্ত্রন। দীর্ঘ নয় মাস হাসপাতালে থাকার পরে তিনি সক্ষম হয়েছেন তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে। তিনি পুরোটা সময় জুড়েই ছিলেন ধৈর্য্যশীল। বাঁচার তীব্র ইচ্ছাই তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছে। তার হৃদপিন্ডের অস্ত্রোপচার হয়েছে , দীর্ঘদিন থেকেছেন রিহ্যাব সেন্টারে এবং ৯৩ পাউন্ডের রোগা, আসক্ত মেয়েটি আরো ৪০ পাউন্ড ওজন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। ভুলেই গিয়েছেন সেই কালো অধ্যায়কে। আজ তিনি নিজের বাড়িতে আছেন, তার সাথে আছে তার বাবা-মা, সাথে রেখেছেন তার পছন্দের দুটি বিড়াল। বদলে গিয়েছে তার জীবন। আজ তিনি হাজারো তরুণ তরুণীর অনুপ্রেরণা।

হয়তো অনেকেই তার জীবন নৌকার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছন। ভাবছেন আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। আপনাকে দিয়েই সব সম্ভব। একবার ভেবে দেখুন। আপনার নৌকার বৈঠাটি কিন্ত আপনার কাছেই। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য্য রেখে তাকে সঠিক পথে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাবেয়া আক্তার স্বর্না

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles