পাঁচ টাকায় মুরগি-খিচুড়ি

পাঁচ টাকায় রান্না করা খিচুড়ি আর মাংস—ভাবা যায়! পাঁচ টাকার বিনিময়ে এই খাবার বিক্রি করছে জামালপুরের তরুণদের সংগঠন ‘আমরা ফাউন্ডেশন’। বিনা মূল্যে না দিয়ে নামমাত্র মূল্যে পথশিশু ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে এই খাবার বিক্রি করছে সংগঠনটি। গত শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় প্রায় দেড় শ মানুষের মধ্যে খাবার বিলি করতে দেখা যায় তাঁদের।করোনাকালীন জামালপুরের ৩০ জন তরুণ এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নে এই সংগঠন পরিচালিত হয়। ত্রাণের পরিবর্তে তাঁরা খাবার রান্না করে প্রতি শুক্রবার পাঁচ টাকার বিনিময়ে বিক্রি শুরু করেন।

গত শুক্রবার দুপুরে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে খাবার কিনতে আসা ব্যক্তিরা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। লাইনে নানান বয়সী মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পথশিশু, রিকশাচালক, দরিদ্র ব্যক্তি ও ছোটখাটো দোকানদার রয়েছেন। সবাই সামাজিক দূরত্ব রেখেই লাইন দাঁড়িয়েছেন। খাবারের ডেকের সামনে দাঁড়ানো সংগঠনের সদস্য আতাউর রহমান। তাঁর হাতে পাঁচ টাকা দিলেই প্লেটে মাংসের খিচুড়ি তুলে দিচ্ছেন তিনি। অনেকেই আবার প্রথম প্লেটের খিচুড়ি শেষ করে দ্বিতীয়বারও নিচ্ছেন। দ্বিতীয়বারের জন্য কোনো টাকা লাগে না। সেখানে আবার পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেখানে বসেই পাঁচ টাকার বিনিময়ে খাবার কিনে খাচ্ছেন তাঁরা।স্টেশন এলাকার এক ছোট চা-দোকানি আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন,’করোনার কারণে স্টেশন এলাকাটি একদম মরুভূমি হয়ে গেছে। কোনো ব্যবসা নোই। তাই খাবার খাওয়া অনেক সমস্যা হয়ে যায়। দূর থেকে দেখি, প্ল্যাটফর্মে মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পরে আস্তে আস্তে আমি আসলাম। দেখি পাঁচ টাকার বিনিময়ে গরম খিচুড়ি বিক্রি হচ্ছে। পরে আমিও লাইনে দাঁড়িয়ে এক প্লেট খিচুড়ি কিনলাম। খিচুড়িডা খাইতে মজাই লাগল।’

দরিদ্র আজগর আলী বলেন, ‘কাগজ ও প্লাস্টিক বোতল টুকিয়ে খাই। মানুষের আনাগোনা কম থাকায় সেটাও এখন কম পাওয়া যায়। তাই অনেক বেলায় খাই আবার না খেয়েও থাকতে হয়। পাঁচ টাকায় খিচুড়ি কিনে খাইলাম। খিচুড়িতে মুরগির মাংসও ছিল।’আমরা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সংগঠনের সবাই আমরা তরুণ। সবাই কোনো না কোনো পেশায় রয়েছি। মালয়েশিয়াপ্রবাসী নূরে আলম নামের এক বন্ধু এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আইডিয়া প্রথম দেন। পরে আমরা সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি গঠন করি।’

 

Facebook Comments

Related Articles