করোনা: রক্তের গ্রুপ ‘এ’ হলে ঝুঁকি বেশি!

যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ পজেটিভ’ বা ‘এ নেগেটিভ’ তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। শুধু তাই নয়, ভেন্টিলেটর লাগার সম্ভাবনাও অন্য রক্তের গ্রুপগুলো থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। এই ধরনের রক্তের গ্রুপ যাদের রয়েছে তারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবদেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শক্তি নিয়ে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাতে বলা হয়েছে, এটাই প্রথম গবেষণা যাতে কভিড-১৯-এর সঙ্গে জিনগত প্রভাবের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। জিনগত বৈচিত্র্যের কারণেই কভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে আলাদা আলাদা প্রভাব দেখা যায়। এতদিন শুধু ধারণা করা হয়েছে, কভিড -১৯ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হবে কি-না তা নির্ভর করে তার বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর। তবে এবার জানা গেছে যে এতে জিনেটিক গঠনও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ডিএনএ গবেষণা করে তারা ঝুকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আলাদা করতে পারবেন। আর এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১৬১০ জন কভিড আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহ করেছেন। তাদের সবারই অক্সিজেন সাপ্লাই বা ভ্যান্টিলেটর লেগে ছিল। এরপর তাদের সবার ডিএনএর তথ্য বের করে আনা হয় সেখান থেকে। এর সঙ্গে সুস্থ ২২০৫ জনের ডিএনএর পার্থক্য নির্ণয় করেন গবেষকরা।

এর আগে চীনের একদল বিজ্ঞানীও জানিয়েছিলেন যে, রক্তের গ্রুপ ‘এ’ হলে তার অবস্থা সংকটানাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রচুর। তবে এখনও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে, রক্তের গ্রুপ কোনো এমন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারবে! এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখনও গবেষণা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কভিড আক্রান্ত হলে কিছু কিছু শরীরের ইমিউন সিস্টেম অত্যাধিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। আর এর কারণে তার শ্বাসযন্ত্র কাজ করতে বন্ধ করে দেয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যেহেতু ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক আছে; রক্তের গ্রুপের ভিন্নতার কারণে আলাদা আলাদা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় একেক দেহে। এনিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চলছে। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বিজ্ঞানীরা আক্রান্ত ব্যক্তির ডিএনএ সংগ্রহ করে এর তথ্য একটি ওয়েবসাইটে আপলোড করতে শুরু করেছেন। এটিকে বলা হচ্ছে গবেষণার পরের ধাপ। এরই মধ্যে এ থেকে ডিএনএর প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে।

Facebook Comments

Related Articles