সাকিবের সাজা কমানোর প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রবল অন্ধকারে জোনাকির আলো হতে পারে সান্ত্বনা। তাতে হয়তো আঁধার কাটে না, কিন্তু অস্বস্তি কমে কিছুটা। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার সময় পুরো ক্রিকেটবিশ্বের থমকে যাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই অবস্থা। সাকিব নিষিদ্ধ তো কী, ক্রিকেটই যে অবরুদ্ধ!

 

তবে তাতে আবার পেছনে পড়ে যায় এই অলরাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞা কমানোর আবেদনের প্রক্রিয়াও।

 

করোনাভাইরাসের কারণে এখনো মাঠমুখো হয়নি ক্রিকেট। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি দেওয়া হয়েছে, শ্রীলঙ্কাও তাদের দেশে ভারত-বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে মরিয়া। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো ঢের বাকি। সাকিবের শাস্তি কমানোর আবেদনের জন্য সময়টা তাই উপযুক্ত মনে হচ্ছে না বিসিবির কাছে।

এমনিতে অবশ্য নিষেধাজ্ঞার রায় বিবেচনায় এ শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ নেই। সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই বছরের জন্য; যার মধ্যে দ্বিতীয় বছরটি স্থগিত নিষেধাজ্ঞাদেশ। অর্থাৎ, এক বছর পরই তাঁর মাঠে ফেরায় বাধা নেই। এ বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে খেলায় ফিরতে পারবেন। সাকিবের নিষেধাজ্ঞার যে সাত পৃষ্ঠার রায়, তার শেষ পৃষ্ঠায় ৩২ নম্বর পয়েন্টে ৭.২ ধারাকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ শাস্তির বিপক্ষে আপিলের সুযোগ আইসিসি কিংবা বাংলাদেশের অলরাউন্ডারের নেই। বিসিবিও তা জানে। তবু তারা তখন বলেছিল, নিজেদের আইনি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে কিছু করণীয় থাকলে সে অনুযায়ী এগোতে চায়।

সাকিবের শাস্তির প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞা কমানোর ব্যাপারে বিসিবি কি এগিয়েছে কোনো পর্যায়ে? এ প্রশ্নের উত্তরে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সামনে নিয়ে আসেন করোনাভাইরাসের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে, ‘সাত মাস আগের পরিবেশ আর গত তিন-চার মাসের পরিস্থিতি পুরো আলাদা। অবশ্যই সাকিবের শাস্তি কমানোর আবেদন করা যায় কি না, অমন একটা চিন্তাভাবনা আমাদের ছিল। এখনো আছে। কিন্তু এটি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বিশ্ব ক্রিকেট ভবিষ্যতে কোন দিকে যায়, তার ওপর।’

বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের মূল মনোযোগ মাঠে খেলা ফেরানোয়। কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা করা যায়, সেটি নিয়েই ব্যতিব্যস্ত সবাই। সময়টাকে তাই সাকিবের শাস্তি কমানোর প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আদর্শ মনে হচ্ছে না বিসিবি প্রধান নির্বাহীর কাছে, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মাঠেই তো এখন ক্রিকেট নেই। এ অবস্থায় সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কমানোর আলোচনা শুরুর জন্য সময়টা আদর্শ নয় হয়তো। কারণ এটি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অগ্রাধিকারে থাকছে না নিশ্চিতভাবে। মাঠে ক্রিকেট ফিরলে তখন আমরা আইসিসির বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে ব্যাপারটা খতিয়ে দেখব।’

অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা যে বিসিবি একেবারে বলেনি, তা নয়। আইসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের সভাতেই তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা থাকেন। সেখানে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কমানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু রায়ে যেহেতু স্পষ্ট লেখা, আপিল করা যাবে না— সে কারণে কোনো পর্যায় থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। নিজামউদ্দিন অবশ্য এ ব্যাপারে ‘হ্যাঁ কিংবা না’ কিছুই বলেননি। ক্রিকেটের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার দিকেই বরং তাঁর জোর, ‘দেখুন, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আটকে গেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আটকে গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য কী হবে, কেউ জানি না। আগে দেখা যাক, ভবিষ্যতে ক্রিকেটের সূচি কোন দিকে যায়। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ কী হয়। এ সিদ্ধান্তগুলো আসার পর আমরা সাকিবের ব্যাপারটি নিয়ে আবার সক্রিয় হব।’

রায়ের বিপক্ষে আপিলের সুযোগ নেই জেনেও সাকিবের শাস্তি কমানোর ব্যাপারে বিসিবির মরিয়া থাকার কারণ ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এ বছর ১৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তা শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ সাকিবের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র ১১ দিন আগে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দল ঘোষণার সময়সীমাও আছে। সব মিলিয়ে বিসিবি চাইছিল, অন্তত এক মাসও যদি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো যায়, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলানো যাবে সাকিবকে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সে বিশ্বকাপের ভাগ্যই তো ঝুলে গেছে! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশও কবে ফিরবে, কে জানে! সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কমানোর যে ক্ষীণ সম্ভাবনা, সেটিও তাই নিভে যাওয়ার দশা।

 

Facebook Comments

Related Articles