এখন কোয়ারেন্টিন নিয়ে দুর্ভাবনায় বিশ্ব ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এত দিন বাসায়ই যা করার করছিলেন তিনি। এবার নিজেকে ফিট রাখার প্রক্রিয়ায় ঘর ছেড়েও বেরিয়ে পড়লেন মুশফিকুর রহিম। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের পেজে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। নিশ্চিত যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মাঠে ব্যক্তিগত অনুশীলনের সুযোগ উন্মুক্ত করে দিতেই সেটিও লুফে নেবেন মুশফিক। কিন্তু বাইরে বের হওয়া এবং ক্রিকেটে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁর মতো মুখিয়ে নেই জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি চিন্তায় আরো কিছুদিন নিরাপদ দূরত্বে থাকাকেই সর্বোত্তম বলে মনে করছেন তাঁরা। কাজেই সহসাই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও সবাই যেতে চাইবেন, সে নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে সামনে যখন দেশের বাইরে খেলার সূচিই বেশি।

এর মধ্যেই এ রকম দৃষ্টান্ত আছেও। এই যেমন ১১ জন রিজার্ভ খেলোয়াড়সহ ২৫ সদস্যের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড সফরে চলে গেলেও যেতে অপারগতা জানিয়ে আগেই সরে পড়েছিলেন তিন ক্রিকেটার—শিমরন হেটমায়ার, ড্যারেন ব্রাভো ও কিমো পল। ৮ জুলাই সাউদাম্পটন টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে ফেরার অপেক্ষা যখন, তখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাস্তবতাও ভিন্ন। ইতিমধ্যেই সবচেয়ে আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায়ও উঠে গেছে নাম। তাই বাংলাদেশকে কোথাও আতিথ্য দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আশার কথা, এখন পর্যন্ত সে রকম কোনো খবর নেই।

খবর আছে সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ ক্রিকেট নিয়ে ইতিবাচক আলোচনারই। যদিও গত পরশু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভার এক দিন পর জানা গেল, বিষয়টি এত সহজও নয়। সব দেশেই প্রায় একই রকম ‘কোয়ারেন্টিন’ নীতিমালায় এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের আসরটি ফেঁসেও যেতে পারে। বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলে রাখছেন সে আশঙ্কার কথাও, ‘ভেন্যু হিসেবে দুটো নাম এসেছে। দুবাই অথবা শ্রীলঙ্কা। তবে সভায় কোয়ারেন্টিনের বিষয়েও খোঁজখবর করতে বলা হয়েছে। কারণ প্রতিটি দেশই এই প্রক্রিয়া মানছে যে আপনি সেখানে গেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। প্রটোকল। এখন এশিয়া কাপ খেলতে গেলেও তা-ই করতে হবে কি না, তাও জানতে হবে আগে। আর যদি তা-ই করতে হয়, তাহলে তো সম্ভব হবে না। কারণ এত সময় কোনো দেশেরই নেই।’

যদিও অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তুলনায় এশিয়া কাপের ব্যবস্থাপনা সহজ বলে আগের দিনই মন্তব্য করেছিলেন নিজাম উদ্দিন। যেহেতু এশিয়া কাপে দলের সংখ্যা কম। তবু আসরটি নিয়ে অনেক ‘যদি-কিন্তু’ থেকে যাচ্ছে যখন, তখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সামনে বাধার পাহাড় আরো উঁচুই। মাঝে একবার সভায় বসেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারটি পিছিয়ে দেওয়া আইসিসি আজ আবার বসছে। আজ সন্ধ্যায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী বৈঠকের আগেই যে আসরকে সংশয়াচ্ছন্ন করে দিয়েছে আয়োজক বোর্ডের বক্তব্য। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী নিজেই তাঁদের দেশে এটি আয়োজনে ঝুঁকি দেখেছেন। সেই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবস্থাপনাগত নানা ঝক্কি-ঝামেলার দিকও আছে। বিসিবি প্রধান নির্বাহীরও তাই মনে হচ্ছে, ‘বিশ্বকাপ হওয়াটা সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জিং। বিসিবির তো শুধু খেলোয়াড়দেরই প্রস্তুত করে দিলে হবে। আর যারা আয়োজন করবে, তাদের কত কিছু প্রস্তুত করতে হবে!’ ক্যারিবীয় দলের ইংল্যান্ডে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এর মধ্যে অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে তারা। কারণ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তারা থাকছে স্টেডিয়ামের হোটেলেই। সব জায়গায় তো আর এ রকম ব্যবস্থা নেই। আর ব্যবস্থা থাকলেও ১৬ দলের জন্য একই বন্দোবস্ত রীতিমতো অসম্ভবও। আবার বহুজাতিক টুর্নামেন্ট হওয়ায় সীমিতসংখ্যক ভেন্যুতেও খেলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বকাপে আবার মূল ভেন্যুর বাইরে প্র্যাকটিস ভেন্যুও রাখতে হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৬টি দলকে নিয়ে যাওয়ার হ্যাপাও তো কম নয়। সব মিলিয়ে আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়েই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণে বসবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Facebook Comments

Related Articles