মোঃ নাসিমের ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগে আসার স্মৃতিচারণ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একসময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ‘মধুর শাসনে’ তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। নিজের ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহাম্মদ নাসিম একাধিকবার এ স্মৃতিচারণ করেছিলেন।

নিজের ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, বুঝে অথবা না বুঝে যে কারণেই হোক আমি তখন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করতাম। ১৯৬৭ বা ১৯৬৮ সালে পাবনায় এক জনসভা শেষে বঙ্গবন্ধু আমাদের বাসায় আসলেন। খাওয়া-দাওয়ার একপর্যায়ে আমাকে খুঁজলেন, বললেন- ‘নাসিম কোথায়?’ আমি ভয়ে ভয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে দাঁড়াই। বাবা-মা পাশেই রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্নেহ করে আমার কান ধরে বললেন, ‘তুই মনসুর আলীর ছেলে হয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করস।’ আমি ভয়ে ভয়ে বললাম- চাচা, আমি এখন থেকেই ছাত্রলীগ করব। এর পর আমি ছাত্রলীগ করেছি। যুবলীগও করেছি।

ছাত্ররাজনীতি ছাড়ার পর নাসিম যুবলীগের রাজনীতি করেন। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাকে দলের ‘যুব সম্পাদক’ নির্বাচিত করা হয়। এর পর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। ২০০২ সালের সম্মেলনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিল একটি। তিনিই সেই পদে ছিলেন। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনেও মোহাম্মদ নাসিমকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। পরে ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এর পর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এর পর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের পাশাপাশি ১৪ দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করেন।

রাজনীতির মাঠে সুবক্তা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ নাসিম ভোটের রাজনীতিতেও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। সিরাজগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন (কাজীপুর) থেকে ৬ বার বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে তাকে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হয়।

সদ্য প্রয়াত নাসিমের বাবা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। জাতীয় চার নেতার একজন মনসুর আলী রাজনীতির কারণে অনেক জেলজুলুম সহ্য করেছেন। মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী মনসুর আলী দেশের স্বাধীনতায় অনন্য ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হওয়ার কারণে তাকে কারাগারে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ দিতে হয়। তার সন্তান মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। ৭২ বছরের জীবনে ৩০ বছর সংসদে সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

Facebook Comments

Related Articles