সুশান্ত শিং রাজপুতঃ সুইসাইড কেন?

আজকের ফেবু এর খুব ঝড়ো আলোচনা সুশান্ত সিং রাজপুত এর সুইসাইড। এখন সুইসাইড এর কারণ মূলত ধরে নেয়া হয় ডিপ্রেশন। বলা হয় আপনি ডিপ্রেশনে থাকলে সে কথা কারো সাথে শেয়ার করুন, কারো সাথে কথা বলুন, তাহলে সুইসাইড করার ইচ্ছা কমে যাবে, ডিপ্রেশন কেটে যাবে। কিন্তু আসলে কি তাই?

খুব সুন্দর সুদর্শন, লেখাপড়াতেও ভাল, ভাল চাকরি করে এমন কেউ সুইসাইড করার মত severe ডিপ্রেশনে যদি থাকে, সেটা তার বন্ধু বা আত্মীয় বা কলিগের সাথে শেয়ার করে সেটা কি আসলেই তার ডিপ্রেশন কমায় নাকি লাইফে জটিলতা আরও বাড়ায়?

ধরেন এরকম সফল কেউ তার ডিপ্রেশনের কথা কোন বন্ধুকে শেয়ার করল। বন্ধু তো মনে মনে আরো খুশি হয়ে যায়। পাইছি এইবার…সারাজীবন ভাল রেজাল্ট করছো, মেয়েরা পিছে ঘুরছে…আর আমি ছিলাম fraustrated… এইবার তুমি ডিপ্রেশনে… এইটা আমি পুরা গুষ্টিকে বলব- ওই হিরো তো ডিপ্রেশনে, কি লাভ হইল এত ভাল রেজাল্ট করে, এত ভাল চাকরি করে…সব বন্ধু বান্ধব কে, পুরা ব্যাচের সবাইকে জানাবো…ঐ হিরো ছিল না আমাদের ক্লাসের…তোরা তো ওর পিছে ঘুরতি…লাখ টাকার চাকরি করে, হেয় তো এখন নাকি বিষন্ন…মরতে চায়!! সুখের অসুখে ধরছে!!

আপনি নিজেই ভেবে দেখেন তো আমাদের আলোচনা কি এই স্টাইলেরই হয় না? তাহলে কেন আমরা বলি ডিপ্রেশন হলে কথা বলুন? আমরাই তো ডিপ্রেশন কে আরো বাড়াই। আমরাই তো আমাদের বন্ধুর জন্যে আরও ক্ষতিকর।

সুতরাং ডিপ্রেশনের পেশেন্ট কে সাপোর্ট করার জন্যে আমি আপনি আমরা পুরা fraustrated জাতি খালি মুখে লাগাম দিলেই চলবে। ডিপ্রেশনের পেশেন্ট কে আমরা আর আমাদের নিজেদের fraustration এর pressure এ না ফেলি। নিজে সুস্থ কথা বলি। আরেকজনকে সুস্থ থাকতে হেল্প করি।
আর যারা ডিপ্রেশনে আছেন তাদের বলি- সুইসাইড করতে ইচ্ছা হলে সবার আগে সব নিয়ম কানুন ভেঙে ঘুরতে চলে যান। সব ভুলে যান। আবার নতুন করে শুরু করেন। কানে তুলা দেন।

মনে রাখবেন পৃথিবীতে আপনি ছাড়া আপনার কোথাও কেউ নেই। এটা যখন মেনে নেবেন লাইফএ অনেক ভাল থাকবেন।

সবাই ভাল থাকুন, প্রিয়জন নিয়ে সুস্থ থাকুন।

ডাঃ নুসরাত রাব্বানী (লেখক- চিকিৎসক। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।)

Facebook Comments

Related Articles