বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ক্লাইভ, চার্চিল ও গান্ধী

ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে বাংলায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য লড়ছেন, তখন আমেরিকা থেকে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন জড়িয়ে পড়েছেন এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে। এই যুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থক ও দাসপ্রথাবিরোধী উত্তরের রাজ্যগুলো (ইউনিয়ন) আর দাসপ্রথা বজায় রাখার সমর্থক দক্ষিণের কিছু রাজ্যের জোটের (কনফেডারেট স্টেটস) মধ্যে। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত চার বছরব্যাপী চলা এই গৃহযুদ্ধ শেষ হয় আব্রাহাম লিংকনের ডাকসাইটে জেনারেল ইউলিসিস এস গ্রান্টের কাছে কনফেডারেটপন্থী জেনারেল রবার্ট লির পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।

তবে উভয় পক্ষে ছয় লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটানো এই গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দাসব্যবস্থার অবসান ঘটলেও বর্ণবাদের আদৌ অবসান ঘটেনি। জেনারেল লির আত্মসমর্পণের চার দিনের মাথায় আব্রাহাম লিংকন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন বর্ণবাদী ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসন। তিনি গৃহযুদ্ধের অনেক অর্জন নস্যাৎ করার চেষ্টা করেন কিন্তু কংগ্রেসের কারণে ব্যর্থ হন। কনফেডারেটপন্থী পরাজিত জেনারেলরা কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবসা-বাণিজ্য করে আবার জেঁকে বসেন। এসব জানা ইতিহাস।

কিন্তু আমার মতো অনেকেই হয়তো জানতেন না যে দাসব্যবস্থা ও বর্ণবাদের জঙ্গি প্রতিমূর্তি, গৃহযুদ্ধের পরাজিত জেনারেল রবার্ট লির মূর্তি এখনো আছে যুক্তরাষ্ট্রে! পরাজিত কনফেডারেটপন্থীদের সম্মানে আছে স্মৃতিস্তম্ভ! দক্ষিণের ১০টি সেনাঘাঁটির নাম আছে দাসপ্রথা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা জেনারেলদের নামে! এসব মূর্তি বা স্মৃতিস্তম্ভগুলো আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের জয় ঘোষণা করে এসেছে।

কিন্তু দেরিতে হলেও দড়িতে টান পড়েছে। শ্বেতাঙ্গ পুলিশের পায়ের চাপে দম নিতে না পেরে মরে যাওয়া একজন কালো মানুষ সারা বিশ্বে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে অভূতপূর্ব দম সৃষ্টি করেছেন। বর্ণবাদের সব চিহ্ন মুছে দেওয়ার এই লড়াইয়ের মুখে নানা জায়গা থেকে বর্ণবাদের স্মারক অপসৃত হচ্ছে। বর্ণবাদী জেনারেল লির মূর্তি অপসারিত হয়ে গুদামঘরে ঢুকছে নয়তো বা নিলামে চড়ছে।

দুই.
পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন সঠিকভাবেই বর্ণবাদের মূল হিসেবে ঔপনিবেশিকতাকে শনাক্ত করতে পেরেছে এবং ঔপনিবেশিক নায়কদের আক্রমণের লক্ষ্যস্থল করেছে। তাই দেখি দাস ব্যবসার জনক ও আমেরিকার আদিবাসীদের গণহত্যাকারী ক্রিস্টোফার কলম্বাসের একটি মূর্তির মাথা উড়ে গেছে! কঙ্গোয় লাখ লাখ মানুষ হত্যার জন্য দায়ী বেলজিয়ামের রাজা লিওপার্ডের মূর্তি আক্রান্ত হয়েছে। যাঁর আমলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য অস্ত যেত না, সেই রানি ভিক্টোরিয়ার মূর্তিও রক্ষা পায়নি। ভারতের ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের প্রধান নায়ক রবার্ট ক্লাইভ, অস্ট্রেলিয়া দখলকারী ক্যাপ্টেন জেমস কুক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনকারী জলদস্যু ফ্রান্সিস ড্রেকের মতো বিতর্কিত ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের মূর্তি অপসারণ করার দাবি উঠেছে।

তিন.
যেসব মূর্তি ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ আন্দোলনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনজনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় নিবিড়। তাঁদের প্রথমজন ভারতের জাতির পিতা মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী। ওয়াশিংটনে গান্ধীজির মূর্তি আক্রান্ত হওয়ায় অনেকেই চোখ কপালে তুলেছেন! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

গান্ধী দক্ষিণ আমেরিকায় থাকার সময় বর্ণবাদের শিকার হন এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী নেতা হিসেবেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার জন্যই তিনি ভারতের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন, রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে মহাত্মা উপাধি পান। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধী আদৌ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন করেননি। তাঁর আন্দোলন ছিল ভারতীয়দের, মূলত ভারতীয় ব্যবসায়ী শ্রেণির প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জুলুম-নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণের তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শ্বেতাঙ্গদের অনুরূপ ছিল।

বছর দুয়েক আগে আফ্রিকার দেশ ঘানার রাজধানী আক্রায় ইউনিভার্সিটি অব ঘানা থেকে গান্ধীজির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয় আন্দোলনের মুখে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#GhandiMustFall’ নামে একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়। তখন গান্ধীকে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয় যে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সময় তিনি ভারতীয়দের আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের চেয়ে উন্নততর জাতি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং তাঁর বিভিন্ন লেখায় আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’, ‘কাফ্রি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গত বছর ম্যানচেস্টারের শিক্ষার্থীরা গান্ধীর একটি মূর্তি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মেতে ওঠেন। এ সময় তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#GhandiMustFall’ শেয়ার করেন।

চার.
এই গান্ধীকে যিনি ‘হাফ নেকেড ফকির’ বলেছিলেন, সেই উইনস্টন চার্চিলের লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে স্থাপিত বিশাল-উদর মূর্তিটিও আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। চার্চিল ব্রিটেনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। একজন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক। বিবিসির ২০০২ সালের এক জরিপে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রিটন’ হিসেবে নির্বাচিত।

কিন্তু এই চার্চিল সব সময়ই ছিলেন একজন বিতর্কিত লোক। তিনি তাঁর বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি কখনো গোপন করেননি। তাঁর একজন জীবনীকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একধরনের ‘বর্ণবাদী শ্রেণি বিভাগে বিশ্বাস করতেন। এই শ্রেণি বিভাগে শ্বেতাঙ্গ প্রোটেস্টান্ট খ্রিষ্টান সবার ওপরে, তার নিচে শ্বেতাঙ্গ ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। তাদের নিচে ভারতীয়রা এবং তারও নিচে আফ্রিকানরা। রেড ইন্ডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের নির্মম আচরণের একজন পাঁড় সমর্থক ছিলেন চার্চিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষে (পঞ্চাশের মন্বন্তর) এবং দুর্ভিক্ষ–পরবর্তী মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষের সময় চার্চিল দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলায় খাদ্য সরবরাহের পরিবর্তে ভারতের চাল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর জন্য পাঠান এবং গ্রিস এবং অন্যান্য জায়গায় ইউরোপিয়ানদের জন্য বিপুল মজুত গড়ে তোলেন। তিনি বলতেন যে আধপেটা বাঙালির জন্য দুর্ভিক্ষ তেমন কিছু নয়। তিনি দুর্ভিক্ষের জন্য বাঙালিদেরই দায়ী করে বলেন যে তারা ‘খরগোশের মতো গাদা গাদা বাচ্চা পয়দা করে’ বলেই দুর্ভিক্ষ হয়েছে।

‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ’ এই ব্রিটনের মূর্তি এখন পুলিশ পাহারায় রাখতে হচ্ছে। তাঁর নাতনি প্রস্তাব দিয়েছেন মূর্তিটিকে জাদুঘরে তুলে রাখার।

পাঁচ.
পরবর্তীকালে যিনি ‘ক্লাইভ অব ইন্ডিয়া’ নামে অভিহিত হতেন, সেই রবার্ট ক্লাইভ যখন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির গভর্নর, তখন খোদ ইংল্যান্ডেই তাঁর নাম পড়েছিল ‘লর্ড শকুনি’ (লর্ড ভালচার)। তাঁর এই নাম পড়েছিল তাঁর নির্লজ্জ অর্থ আত্মসাৎ ও ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’-এ তাঁর ভূমিকার জন্য। পঞ্চাশের মন্বন্তরের আগে বাংলায় সবচেয়ে বড় দুর্ভিক্ষটি ছিল ১১৭৬ বাংলা সনের বা ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’। অমর্ত্য সেন এই দুর্ভিক্ষকেও ‘মনুষ্য-সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৭৬৫ সালে সাম্রাজ্যচ্যুত মোগল নবাব শাহ আলম ক্লাইভের চক্রান্তে ও চাপে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলায় দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার দিতে বাধ্য হন। এরপর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের নামে ক্লাইভের নেতৃত্বে বাংলায় যে লুটপাট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, তা ছিল দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ।

১৭৬৯-৭৩ সালের এই দুর্ভিক্ষে বাংলায় প্রায় এক কোটি মানুষ মারা যায়। কিন্তু এই দুর্ভিক্ষের সময়ও বাংলা থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পায়! যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় না খেতে পেয়ে প্রতি তিনজনের একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন কোম্পানি তাদের সৈন্যবাহিনীর জন্য প্রচুর খাদ্যশস্য মজুত করছিল। কোম্পানির কর্মচারীরা চালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ কামিয়ে বিলেতে পাঠান। দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে খারাপ সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা ১০ লক্ষাধিক পাউন্ড লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন।

পলাশীর যুদ্ধের পর ক্লাইভ বিলেত ফিরে গিয়ে ভারত থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া অর্থে বিপুল সম্পত্তি ও আভিজাত্য কেনেন। এক হিসাব অনুযায়ী, ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫ পর্যন্ত দুবারে ক্লাইভ বাংলা থেকে প্রায় তিন মিলিয়ন পাউন্ড (বর্তমান হিসাবে ৩০ কোটি পাউন্ড) হাতিয়ে নেন। ক্লাইভের স্ত্রীর পোষা এক নকুলের গলায় নাকি আজকের মূল্যে ২৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার হার ঝুলত।

ব্রিটিশরা ভারতে আসার আগে বিশ্ব অর্থনীতির ২৩ শতাংশ ছিল ভারতের, যা সে সময়ের ইউরোপের সব দেশের অর্থনীতির যোগফলের সমান! আর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন ভারত থেকে বিদেয় হয়, এই অংশ কমে মাত্র ৩ শতাংশে নেমে আসে। ভারত থেকে লুট করা সম্পদই ব্রিটিশ অর্থনীতিকে গড়ে তুলেছে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর অষ্টম শতকের অর্থনৈতিক মন্দার সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ব্রিটিশ সরকার ১৪ লাখ পাউন্ড ঋণ দেয়। বিপর্যয়ের মুখে পড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে সরকারি অর্থ প্রদান করে ‘বেইল আউট’ করার এটি সম্ভবত বিশ্বে প্রথম ঘটনা। ব্রিটিশ সরকারকে এটি করতে হয় কারণ তখন বাংলার রাজস্বের ওপরই ব্রিটিশ সমৃদ্ধি নির্ভর করছিল। তৎকালীন একজন ব্রিটিশ সাংসদ পার্লামেন্টে বলেছিলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে রক্ষা করা অপরিহার্য, তা না হলে গ্রেট ব্রিটেন ধ্বংস হয়ে যাবে!

বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পল লন্ডনের হোয়াইট হল সড়ক থেকে ‘লর্ড শকুনি’ রবার্ট ক্লাইভের মূর্তি অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন। গেল বছর প্রকাশিত তাঁর বই ‘দ্য অ্যানার্কি’তে তিনি ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন, ষড়যন্ত্র, বেইমানি, সমৃদ্ধি ও অবাধ লুণ্ঠনের বর্ণনা রয়েছে। ইংল্যান্ডের শ্রুসবারিতে অবস্থিত ক্লাইভের মূর্তি অপসারণের জন্য কয়েক হাজার লোক আবেদন করেছেন।

ছয়.
দাস শ্রম ও উপনিবেশের লুণ্ঠিত অর্থের ওপরই আজকের শ্বেতাঙ্গ সভ্যতার ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ঔপনিবেশিক ঐতিহাসিকেরা এত দিন উল্টো কথাই প্রতিষ্ঠা করেছেন। উপনিবেশের কৃষ্ণাঙ্গ, অশ্বেতাঙ্গদের বর্বর অসভ্য হিসেবে এবং দাস মালিক আর ঔপনিবেশিক দুর্বৃত্তদের তাদের ত্রাতা ও নায়ক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। কিন্তু এখন ধামাচাপা দেওয়া সত্য উদঘাটিত হয়ে নয়া ইতিহাস রচিত হচ্ছে। বেরিয়ে আসছে নায়ক–মহানায়কদের কদর্য চেহারা। আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘তুমি সব মানুষকে কিছুদিনের জন্য বোকা বানিয়ে রাখতে পারবে বা কিছু মানুষকে সব সময়ের জন্য, কিন্তু সবাইকে সব সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখতে পারবে না।’ এটি ইতিহাসের অমোঘ সত্য।

‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন শিগগিরই হয়তো থেমে যাবে। এই আন্দোলনের এমন কোনো শক্তি অর্জন করেনি যে যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদী, সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুঁড়িয়ে দেবে। কিন্তু এই আন্দোলন যে বার্তা দিয়ে গেল, তার গুরুত্ব অপরিসীম। সারা বিশ্বের বর্ণবাদ-নির্যাতন-ঔপনিবেশিকতাবিরোধী মানুষগুলোকে এই আন্দোলন একটি আশার বাণী শুনিয়ে গেল ইটস ইজ দ্য বিগেনিং। ‘এ তো সবে শুরু’।

চৌধুরী মুফাদ আহমদ, প্রাবন্ধিক
[email protected]

Facebook Comments

Related Articles