চিকিৎসক হত্যাকারী ৫ আসামী গ্রেপ্তার

ডা: মো: আব্দুর রকীব খান হত্যার প্রধান আসামীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷
খুলনা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা: মেহেদী নেওয়াজ সকালেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ডা. রকীব খানকে হত্যা মামলায় আগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল এজাহারনামীয় জমির, আবুল আলী, আব্দুর রহিম। এ ছাড়া, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন গোলাম মোস্তাফা ও খাদিজা। এজাহারনামীয় একজন আসামি বাকি আছেন, তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

পুলিশ জানায়, আজ ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী ও খুলনার রূপসা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডা. আব্দুর রকীব খান ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক ও বাগেরহাট সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অধ্যক্ষ।

নিহতের ছোট ভাই জানান, গত রোববার সকালে গল্লামারীর মুহাম্মদ নগর এলাকার সন্তানসম্ভবা এক নারীকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন স্বজনরা। ওই নারীর কিছু জটিলতা থাকায় ওইদিন বিকেলে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। প্রথম দিকে বাচ্চা ও মা দুইজনই ভালো ছিলেন। কিন্তু রাতে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সকালে ওই রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য সুপারিশ করা হয়।

সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। দুপুরের দিকে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে ওই নারী মারা যান। এরপর রাত ৯টার দিকে ওই নারীর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে ক্লিনিকের সামনে এসে ডা. রকীব খানকে মারধর করেন। এসময় ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।’

‘মারধরের পর কয়েকবার বমি করেন ডা. রকীব খান। অবস্থা গুরুতর হতে থাকলে রাত ২টার দিকে তাকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালের দিকে সিটিস্ক্যান করে দেখা যায় তার মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেখান থেকে দুপুরের দিকে তাকে শেখ আবু নাসের হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান’, বলেন তিনি।

Facebook Comments

Related Articles