ক্রমেই উজ্জ্বল সাকিবের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই মাসেই বাংলাদেশে নির্ধারিত অস্ট্রেলিয়া দলের টেস্ট সফর স্থগিত হয়ে যেতেই আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল মমিনুল হকের মন। নতুন সূচি ঠিক হতে হতে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে এবং দেশের মাঠে শক্তি আরো বাড়িয়ে নামার কথা ভেবেই টেস্ট অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘সফর পিছিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো, আমরা তখন সাকিব ভাইকে নিয়ে খেলতে পারব।’

এবার বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও কি একই রকম ভাবনায় ডুব দিতে শুরু করেছেন? যেহেতু ১৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা আছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যে আলোচনায় ঘি ঢেলে চলেছে স্বয়ং আয়োজক বোর্ডও। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি যদিও কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি এখনো। সব শেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আরো এক মাস পিছিয়ে দিয়ে যখন তারা অপেক্ষায়, তখন আরো ১৫টি দলকে আতিথ্য দেওয়ার বিশাল দায়িত্ব থেকে যেন বাঁচতে চাইছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও (সিএ)। তাতে করে যেন ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে সাকিবের বিশ্বকাপ সম্ভাবনাও।

জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করা এই অলরাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে ২৯ অক্টোবর। এর আগেই টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে গেলে মাঝপথে তাঁর জন্য ফেরা কঠিন। তা ছাড়া নিজেকে প্রস্তুত করার ব্যাপারও আছে। টুর্নামেন্ট পিছিয়ে গেলে দুই দিক থেকেই ব্যাপারটি সোনায় সোহাগা হয়। পিছিয়ে যাওয়ার আলোচনাও জোরদার হওয়াতে সাকিবকে পাওয়ার আশাতে এখনই ঝলমলিয়ে উঠতে শুরু করেছে অনেকের চোখ। এঁদের অন্যতম মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য এখনো দলীয় প্রস্তুতিকেই বড় করে দেখছেন নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার চেয়ে, ‘একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে ভাবলে তো হবে না। ভাবতে হবে পুরো দলের কথা।’

প্রধান নির্বাচকের মতে, ‘টুর্নামেন্ট পিছিয়ে গেলে দলের প্রস্তুতি আরো জমাট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ছেলেরা কত দিন ধরে খেলার বাইরে! কবে ফিরতে পারবে, তারও কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কাজেই যথাসময়ে বিশ্বকাপ হলে ওরা প্রস্তুতির জন্য কত সময় পাবে, সেটিও বলতে পারি না। পিছিয়ে গেলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্বকাপে যাওয়া যাবে।’ তবে সাকিবকে পাওয়ার বিষয়টিও তিনি হিসাবের খাতায় গুরুত্ব দিয়েই টুকে রেখেছেন, ‘সাকিবের সার্ভিস পাওয়া গেলে তো দল অবশ্যই উপকৃত হবে। দলের গাঁথুনিও মজবুত হবে নিশ্চিতভাবেই।’

বিশ্বকাপ পিছিয়ে গেলে তা এই বছর আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার একই সময়ে ভারতে আইপিএলের জন্য ‘উইন্ডো’ বের করার সম্ভাবনাও আছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ পরের বছর চলে গেলে সাকিবকে নিয়ে দলের শক্তি বাড়ানোর আলোচনায় আরো আগেই যোগ দিয়ে বসে আছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। কিছুদিন আগে সংবাদমাধ্যমে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘যদি বিশ্বকাপ আগামী বছর হয়, তাহলে অবশ্যই সাকিব ফিরবে। আর সেটি আমাদের জন্য হবে দারুণ এক ব্যাপার।’

সাকিবের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা কিছুদিন আগে তৈরি করে দিয়ে যান সিএ-র বিদায়ি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন রবার্টস। নির্ধারিত সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এবার সংস্থাটির প্রধান আর্ল এডিংসও যেন নির্ধারিত সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নাকচই করে দিলেন এই ভাষায়, ‘এটি ঠিক যে টুর্নামেন্টটি এখনো বাতিল বা স্থগিত করে দেওয়া হয়নি। কিন্তু কভিড নাইনটিনে বর্তমান বিশ্বের যে পরিস্থিতি, প্রতিটি দেশ যেভাবে ভুগছে, তাতে ১৬ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন কঠিনই নয় শুধু, অবাস্তবও।’

যা আবার সাকিবের বিশ্বকাপ সম্ভাবনাও বাস্তব করে তুলছে!

Facebook Comments

Related Articles