হুয়াওয়ে এখন শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা: কাউন্টার পয়েন্ট

যা কেউ ভাবেনি, তাই দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে থাকা চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ স্থান ছুঁয়েছে।এপ্রিলে স্মার্টফোন বাজারের অবস্থা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামাসং ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে পেছনে ফেলেছে হুয়াওয়ে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের বাজারে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তার কারণে হুয়াওয়ে শীর্ষে চলে এসেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোচায়না এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বহুদিন ধরে শীর্ষে থাকা স্যামসাংকে পেছনে ফেলে স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষস্থান দখল করেছে হুয়াওয়ে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে স্মার্টফোন মার্কেটের ১৯ শতাংশ দখল করে এপ্রিলে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসে হুয়াওয়ে। অপরদিকে, স্মার্টফোন মার্কেটের ১৭ শতাংশ দখল করে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে স্যামসাং। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির ফলে স্যামসাংয়ের অন্যতম প্রধান স্মার্টফোন বাজার ইন্ডিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপে স্মার্টফোন বিক্রি হ্রাস পায়। স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির আরেক অন্যতম কোম্পানি অ্যাপলের আইফোন বিক্রি বছরান্তে ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলোর স্মার্টফোন বিক্রির হার আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়ে দুই সংখ্যায় নেমে এসেছে।

কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চ কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুসারে, গোটা স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি এই প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কারণে স্মার্টফোন বিক্রয় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পায়।

বিস্ময়কর হলেও লকডাউন ও আমেরিকার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বে বছরান্তে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রি ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে পুঁজি করেই চীনে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে হুয়াওয়ে। চীনে অনেক আগে থেকেই গুগল পরিষেবা নিষিদ্ধ। এতে হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞায় চীনাদের দেশীয় ফোন কিনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। শুধুমাত্র চীনেই হুয়াওয়ের মার্কেট শেয়ার ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাউন্টার পয়েন্টের প্রতিবেদন অনুসারে, হুয়াওয়ে প্রথম প্রান্তিকে ৪৯ মিলিয়ন স্মার্টফোন বাজারজাত করে, যা গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। স্যামসাং ও অ্যাপল যথাক্রমে ৫৯ মিলিয়ন ও ৪০ মিলিয়ন স্মার্টফোন বাজারজাত করে, যা গতবছরের তুলনায় ১৮ ও ১৭ শতাংশ কম।

Facebook Comments

Related Articles