ম্যাচ পাতাতে পাকিস্তানিরা পেত দামি গাড়ি, লাখ টাকা

আরেকবার ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার আকিব জাভেদ। নব্বই দশকে পাকিস্তান ক্রিকেট ছিল ম্যাচ পাতানোর ‘ক্যানসারে’ আক্রান্ত। এই সময়টাই দেশের হয়ে খেলেছিলেন আকিব। ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ম্যাচ পাতানোর অনেক কিছুই খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।

ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের ছায়ায় থেকেই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন আকিব। প্রতিভায়, সামর্থ্যে সে সময় বিভিন্ন দলের খেলা অনেক পেসারের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও তাঁর ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি। অনেকেই বলেন ম্যাচ পাতানোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কারণেই নাকি তাঁর এই পরিণতি।
আকিব নিজেও এমনটাই মনে করেন। ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেকারণেই খুব বেশিদিন দেশের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি, ‘
খেলোয়াড়ি জীবনে নাকি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বছরের পর বছর ম্যাচ ফিক্সিং করতে দেখছেন আকিব। বেশ কয়েকবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দেওয়ায় নাকি আকিবের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি, ‘আমি যখন ফিক্সিং সম্পর্কে জানতে পারলাম, তখন আমি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। এর ফলে আমার ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি কিন্তু আমার মূল্যবোধে আমি বিশ্বাস রাখি। অনেক সফর থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হয় ফিক্সিংয়ে বিরোধিতা করার জন্য। আমার সঙ্গে যারা চলাফেরা করতো তাদেরও তিরস্কার করা হতো।’
তিনি পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমকে পাকিস্তানের এক সাবেক ক্রিকেটারের কথা বলেছেন। সেলিম পারভেজ নামের এই ক্রিকেটার ১৯৮০ সালে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন। পারভেজ নাকি ক্রিকেটার ম্যাচ পাতাতে লোভনীয় সব প্রস্তাব দিতেন, ‘সেলিম পারভেজ ম্যাচ পাতাতে দামি গাড়ি, লাখ লাখ রুপির লোভ দেখাত ক্রিকেটারদের। অনেকে লোভ সামলাতে না পেরে এতে জড়িয়ে পড়ত। কিন্তু এসব ব্যাপার জেনেও চুপ করে থাকতে হতো। যারা মুখ খুলত, তাদের ক্যারিয়ারই ধ্বংস করে দেওয়া হতো।’
পাকিস্তানের হয়ে ২২ টেস্ট ও ১৬৩ ওয়ানডে খেলেছেন আকিব। টেস্টে ৫৪ ও ওয়ানডেতে ১৮২ উইকেটের মালিক এই ডানহাতি সুইং বোলার বর্তমানে কোচ হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। ১৯৯১ সালে শারজায় ভারতের বিপক্ষে তাঁর ৭ উইকেটের কীর্তি স্মরণীয়ই হয়ে আছে।

Facebook Comments

Related Articles