এবার বিহারের কিছু অংশ নিজেদের বলে দাবি নেপালের

চীনের সঙ্গে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ সেনা প্রাণ হারানো এবং তিনটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে নেপালের নতুন মানচিত্র প্রকাশ নিয়ে বেশ চাপে মোদি সরকার। এর মধ্যেই এবার বিহারের কিছু অংশ নিয়েও নতুন দাবি জানাল নেপাল। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

জানা গেছে, বিহার সরকারকে সীমান্তে একটি বাঁধ নির্মাণে বাধা দিয়ে ওই অঞ্চলকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ দাবি করেছে নেপাল।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের  প্রকৌশলী উমা নাথ রাম বলেন, প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার সৃষ্টি করে এবং প্রতি বছর বাঁধটি মেরামত করা হয়। আমরা এটিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এর উচ্চতা ৩.৬ কিলোমিটার বরাবর কাজটি শেষ করেছি। তবে নেপাল থেকে আসা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের পদক্ষেপ নিতে বাধা দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, নেপালের কর্মকর্তারা ৩.১ কিলোমিটার প্রসারিত কাজ শেষ হওয়ার পরেই আপত্তি শুরু করেছিলেন। তবুও নেপালিরা এসে প্রকল্পটি বন্ধ করার আগে তিনি এবং তার দল একরকম আরও ৫০০ মিটার কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন।

জানা গেছে, নেপাল গত ৪ জুন বিহার সরকারকে বাঁধ নির্মাণে বাধা দিলেও এটি প্রকাশ্যে এসেছে গত শনিবার। এর মাত্র দু’দিন আগেই ভারতের দাবিকৃত তিনটি অঞ্চলসহ নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদন দেয় নেপালের সংসদ। নতুন ওই মানচিত্রে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার অঞ্চলগুলোকে নেপালি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বিহারের সাথে নেপালের ৭২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ভারতের পানি সম্পদ বিভাগ (ডব্লিআরডি) কর্তৃপক্ষ বিহারের পূর্ব চাম্পারান জেলার লাল বকেয় নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণে নেপালের বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এছাড়া, গত ১৩ জুন বিহার সীমান্তে নেপালি বাহিনীর গুলিতে এক ভারতীয় নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। গ্রামটিতে আন্তঃসীমান্ত বৈঠকের সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে, নেপালের দাবি, লকডাউন নির্দেশনা অমান্য করায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে তারা।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারত সীমান্তে সেনা টহলও বাড়াচ্ছে নেপাল। তৈরি হচ্ছে নতুন ক্যাম্প। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হেলিপ্যাড বানানোরও কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। আর এসব কিছুর পেছনে চীনের মদদ রয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।

Facebook Comments

Related Articles

Close