সৈকতে ভেসে এক বিরল প্রজাতির মৃত তিমি

কক্সবাজারের টেকনাফের সমুদ্রসৈকতে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া সমুদ্রসৈকতে এ মৃত তিমিটি ভেসে আসে। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিরল প্রজাতির তিমি। এর নাম ব্রিডস হোয়েল (Bryde’s Whale)।

সাবরাং ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, গত শনিবার বিকেলে জোয়ারে একটি বিরল প্রজাতির তিমি আসার খবর শুনেছিলেন। ওই সময় তিনি এলাকার লোকজনকে আটকে পড়া তিমিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে পুনরায় পানিতে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে আজ সকালে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য এলাকায় ওই তিমি মৃত অবস্থায় ভেসে এসেছে। বর্তমানে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ। কিন্তু কীভাবে তিমিটি মারা গেল, তা বলা মুশকিল। তিমির শরীরের কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিও ও ছবি দেখে নিশ্চিত হয়েছি এটি তিমি। এই তিমির নাম ব্রিডস হোয়েল (Bryde’s Whale)। এর বৈশিষ্ট্য পিঠ গাঢ় ধূসর রং, পেট হালকা ধূসর রং, মাথার দৈর্ঘ্য মোট দৈর্ঘ্যের চার ভাগের এক ভাগ। তবে এটি প্রাপ্তবয়স্ক তিমি নয়। সাধারণত বয়স্ক একটি তিমি প্রায় ৩০-৪০ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। টেকনাফের এ তিমিটি আনুমানিক ১০ ফুটের মতো লম্বা। ভারত মহাসাগরে ১০ প্রজাতির তিমি রয়েছে।

মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘করোনা সংকট ও টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে জাহাজ, ট্রলার ও নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। সৈকতে মানুষ ও পর্যটকের উপস্থিতি না থাকায় তিমিটি সৈকতের কাছাকাছি চলে আসে। করোনাকালে আমরা দেখেছি; সব প্রাণী মানুষের অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের মতো বিচরণ করছে। কিছুদিন আগে একঝাঁক ডলফিন এসেছিল সৈকতে। একটু স্বস্তি পেলে প্রাণীরা যে তাদের মতো বিচরণ করতে পারে, এই তিমির আগমন তারই প্রমাণ।’

কিছুদিন আগেও কক্সবাজার সৈকতের কাছেই একঝাঁক ডলফিনের দেখা মেলে। তখন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে উঠেছিল ১৩টি মৃত ডলফিন। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি সমুদ্রে বিশাল আকৃতির একটি মৃত ‘তিমি’ ভাসতে দেখা যায়। ওই তিমিটি ৪০ ফুট লম্বা। অনেকেই সেটিকে ‘বালেন’ প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করেছিলেন। এরপর পর্যটকশূন্য কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে সৈকতে
গত শনিবার দেখা মিলল এই বিরল প্রজাতির তিমির। তবে এক দিন পরই ভেসে এল ওই তিমির মৃতদেহ।

টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি বিরল প্রজাতির তিমির মৃতদেহ ভেসে আসার খবর শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Facebook Comments

Related Articles