ময়মনসিংহে উদ্বোধনের ১০ দিনেও চালু হয়নি করোনা হাসপাতাল

ময়মনসিংহে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ১০ দিন আগে উদ্বোধন করা হয়েছিল করোনা কেয়ার ইউনিট। কিন্তু আজ সোমবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে স্থাপিত এই ইউনিটের কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে কোভিড–১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য এখনো শহরের এস কে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটেই ভরসা করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে করোনা কেয়ার ইউনিটের উদ্বোধন করেছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, নগর ভবন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যদিও এর আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা কেয়ার ইউনিট স্থাপন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে সব জটিলতা অবসান করেই ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালের পূর্ব পাশে নতুন ভবনের ৫ম থেকে ৮ম তলা এই চারটি ফ্লোরে স্থাপিত করোনা কেয়ার ইউনিটে ১০০ শয্যার পাশাপাশি ৪০টি কেবিন রয়েছে। এ ছাড়া ৭টি আইসিইউ শয্যা এবং ৩টি ভেন্টিলেটর রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫০ শয্যা রয়েছে এখানে। সব কটি শয্যায় কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। ৩৩০ জন চিকিৎসক এবং ৭১২ জন সেবিকা পালাক্রমে চিকিৎসাসেবা দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেডিকেটেড হাসপাতাল উদ্বোধনের পরও চালু না হওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এখানে এখনো টুকিটাকি বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজগুলো শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই করোনা কেয়ার ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোভিড রোগীরা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি মতিউর রহমান ভূঁইয়া। তিনি এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়হীনতাকেই সরাসরি দায়ী করেন। এ ছাড়া তিনি কোভিড রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য এই ইউনিটে ‘হাই ফ্লো অক্সিজেন ন্যাজাল ক্যানুলা’ চালুরও দাবি জানিয়েছেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সিভিল সার্জন এ বি এম মসিউল আলম বলেন, বর্তমানে যে আইসোলেশন ইউনিটটি রয়েছে এখানে ৭০ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি থাকে। এখানে তাঁদের পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। করোনা কেয়ার ইউনিট চালুর ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ময়মনসিংহে গত ১০ দিনে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হোম আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় একজন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় ১৬ জন এবং বিভাগে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Facebook Comments

Related Articles