১২ ঘন্টা পর বেঁচে ফেরার কাহিনী এখন রহস্যময়!!!

বুধবার,১ জুলাই,২০২০

সোমবার বুড়িগঙ্গা নদীতে ঘটে যাওয়া লঞ্চ দূর্ঘটনার প্রায় ১২ ঘন্টা পর, কর্তৃপক্ষ লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে শুরু করলে একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, বলা হয় তিনি নিজেই সাঁতার কেটে বেরিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন রকম প্রশ্ন ওঠে, যার মধ্যে অনেক প্রশ্নেরই নেই উত্তর।

পেশায় ফল বিক্রেতা সুমন বেপারীকে উদ্ধার করার পরপরই তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেছেন তার উদ্ধারের কথা।

তিনি বলছেন, “মনে হচ্ছিল আমি প্রায় ১০ মিনিটের জন্য পানির নীচে ছিলাম”

তিনি আরও বললেন, “আমি মেশিন রুমের কাছাকাছি ছিলাম। আমার মনে আছে একটি বড় ধাক্কার মত আওয়জ শুনলাম এবং লঞ্চটা ডুবে যেতে দেখলাম”

তিনি বলেছেন যে তিনি লঞ্চটির সাথে সংযুক্ত একটি রড ধরেছিলেন এবং পুরো সময় ধরে এটি ধরে রেখেছিলেন।

তিনি এত সময় কিভাবে কাটিয়েছিলেন এবং এই সময়ের মধ্যে কী করা হয়েছিল জানতে চাইলে সুমন বেপারী বলেছেন, “আমি একবার পানি পান করতে পেরেছি এবং প্রস্রাবও করেছি।
“আমার পাশের একটি মৃতদেহ ছিল, আমি এটিকে সরিয়ে নিয়েছি।”

তবে তিনি তার চারপাশের পরিস্থিতি বা এই সময়ে তিনি কোথায় আটকে ছিলেন তা বর্ণনা করতে পারেননি।

সুমনের ভাগ্নে আবুল হোসেন জানান, চাচা আট বছর আগে জর্ডানে কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন। মূলত মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির এই লোক বর্তমানে লঞ্চে ফল বিক্রি করেন।
আবুল বলেন, “সেদিন তার চাচা তার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসছিলেন”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেছেন, যখন তাকে মিটফোর্ডের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তিনি সজ্ঞানে ছিলেন, এমনকি গাড়ীতে উপস্থিত সকলের দিকে তাকাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন,”তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন”

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মোঃ রশিদ-উন-নবী বলেছেন, “সুমন ব্যপারীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। প্রথমদিকে শ্বাসকষ্ট হওয়ার কারণে তার অক্সিজেনের সহায়তা দরকার ছিল”
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেছেন, “৫৫ ফুট গভীর পানিতে একজনের পক্ষে ১২ ঘন্টা বেঁচে থাকা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়।মাছ এবং জলজ প্রাণীর পক্ষে কেবল এই গভীর জলে বাস করা সম্ভব”

সোমবার (২৯ জুন) মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকায় আসছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়ূর-২ লঞ্চ পেছনের দিকে ধাক্কা দিলে মর্নিং বার্ড নামক লঞ্চটি ডুবে যায়।এখন পর্যন্ত নারী,পুরুষ ও শিশুসহ ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাবেয়া আক্তার স্বর্না

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles