ক্যাডার বৈষম্যের গ্যাঁড়াকলে বঞ্চিত হবে সাধারণ ছাত্ররা-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে ঢাবিয়ানের আক্ষেপ

বৃহস্পতিবার,২ জুলাই,২০২০

আজ শতবর্ষে ঢাবি, অভিনন্দন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি একটু বেশিই ভালোলাগা কাজ করে।কারণ আমরা ছয় ভাইবোনের পাঁচ ভাই-বোনই ঢাবির। মাঝে মাঝে আফসোস হয় আমার বড় বোনটা যদি আমার বড় না হয়ে ছোট হত, তাহলে সেও হয়তো ঢাবিতেই পড়তো। আমাদের পরিবার হয়ে যেত ঢাবি পরিবার।
আপনি ঢাবির যেখানেই যাবেন সেখানেই ঢাবির সৌন্দর্য খুঁজে পাবেন। লাইব্রেরিতে যাবেন, দেখবেন একদল সারাদিন শুধু পড়েই যাচ্ছে,যাবেন মধুর ক্যান্টিনে, সেখানে চলছে রাজনৈতিক আড্ডা।কলাভবনের মিছিলে প্রকম্পিত চারপাশ, জিম এ ব্যায়াম করে বডিবিল্ডার হচ্ছে কতিপয় বডি শো ম্যান।বিএনসিসি,দেশের সেবায় নিবেদিত প্রাণ,টার্গেট চার বছরে পচিঁশ মার্ক , টিএসসির দোতলায় বিভিন্ন সংগঠন আর টিএসসির অলিগলিতে দুজনে সারাদিন কি যে কথা বলেই চলছে শেষ তো আর হয় না। আপনি ঢাবির যেখানেই যান মোটামুটি সারাদিন এ চিত্র দেখতে পাবেন।
কিন্তু এর বাইরেও এক করুণ চিত্র আছে। কেউ টাকার অভাবে টিউশনি করছে, ক্লাশ শেষেই দৌড়, কেউবা পাবলিকেশন, পত্রিকা বা অন্য কোন কাজ করছে কয়েকটা টাকা আয় করে টিকে থাকার চেষ্টায়, কেউবা সকালে ঘুম থেকে উঠে ১১ টায়, যাতে সকালের নাস্তা না করে টাকা বাচানো যায়।কেউবা সকালে ঘুম থেকে উঠে বাহির থেকে ঘুরে এসেছে।রুমের সবাই জানল নাস্তা করে এসেছে।আসলে টাকা নাই, নাস্তা করে নাই। কেউবা বিভিন্ন ছলে ফ্রি খাচ্ছে, আসলে তার টাকা নাই। টাকার অভাবে কেউবা ভর্তি হতে না পেরে বছরের পর বছর ইয়ার মিস দিচ্ছে।
এরপরও শত কষ্ট করে পার হয় ঢাবির গন্ডি। অজপাড়া গাঁ থেকে মেধার জোরে যারা উঠে আসল, বাবা -মা নাই বা বাবা থাকতে যারা সংগ্রাম করে টিকে রইল চাকরিতে তাদের কিন্তু লড়াই করতে হয় সব সুযোগ সুবিধা পেয়ে বড় হওয়া আদরের দুলালের সঙ্গে।
৩৮তম বিসিএস থেকে তাদের আরেক লড়াই শুরু হল ক্যাডার বৈষম্যের কারণে। মেডিকেল, বুয়েটের তুলনামূলক বেশি মেধাবী ও বেশি সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তরা ছুটছে জেনারেল ক্যাডারের দিকে। ফলে তাদের সাথে হবে এক অসম লড়াই। অসম লড়াইয়ে এত সংগ্রামের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে,আবছায়া আঁধারে মিশে যাবে দীর্ঘশ্বাস।
অথচ রাষ্ট্র যদি ক্যাডারে এসব বৈষম্য দূর করতো, পেশাজীবীদের সঠিক মর্যাদা দিতো, তাহলে একজন ইঞ্জিনিয়ার বা একজন ডাক্তার কোনদিনই এ জাতীয় কমন কাজ যা সবাই পারে,তা করতে আসতো না।তাদের স্বপ্নগুলো বিকিয়ে দিয়ে মেকি সম্মানের দিকে ছুটত না। সবাই সবার আজন্ম লালিত স্বপ্নের ছোঁয়া পেতো, উপকৃত হতো দেশ, জনগন, সাধারণ মানুষ।
হয়তো কোনদিন ঢাবির কলাভবন চত্ত্বর থেকেই ক্যাডার বৈষম্য নিরসনের স্লোগান উঠবে,সবাই প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাবে। কারণ এসবকিছুই ঢাবির সৌন্দর্য।
ভাল থাকুক ঢাবি,
স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক ঢাবিয়ানদের।
শেষ হোক ক্যাডার বৈষম্যের।

লেখক রুহুল আমিন
মহাসচিব, তরুণ পেশাজীবি ফোরাম

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles