আমি নির্দোষ, দায়ী কুয়েতের ঘুষখোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাঃ এমপি পাপুল

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-২) শহীদুল ইসলাম পাপুল দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের তদন্তের সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ…কিন্তু কর্মকর্তারা নির্দোষ নয়’।

কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউসনের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদে পাপুল জানিয়েছেন, কাজ ছাড়িয়ে নিতে কিছু কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তার। অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশি এই এমপি। কুয়েত সরকারের কিছু কর্মকর্তার ওপর দায় চাপিয়ে ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারটি পাপুল সিদ্ধ করতে চাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আরব টাইমস।

প্রসিকিউশনকে পাপুল বলেছেন, “কুয়েতে আমার ৯০০০ হাজার শ্রমিক আছে এবং এগুলো ১০০ ভাগ বৈধ টেন্ডারে পাওয়া। আমার অর্জন নিয়ে কারও অভিযোগ নেই। কিন্তু কিছু কর্মকর্তা আমার টেন্ডারগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। টাকা দিয়েই এগুলো ছাড়িয়ে নেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল।”

কুয়েতে আটক সাংসদ শহিদ ইসলাম (পাপুল) দেশটির রাজনীতিবিদ, আমলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের খুঁজে খুঁজে ঘুষ দিতেন। আর বাংলাদেশের এমপির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে সুবিধা পেতে তারা সহায়তা করতেন। দুই পক্ষের মধ্যে এই লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
‘আরব টাইমস’, ‘আল কাবাস’, ‘আল সিয়াসাহ’, ‘আল রাই’সহ কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও অভিমতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, কুয়েতের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের মদদে যে বাংলাদেশের এমপি মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের মতো অপরাধগুলো করেছেন, সেটি নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সাবেক ও বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে অনৈতিক এসব কাজে মদদ দেওয়ায় তোলপাড় চলছে কুয়েতের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
কুয়েতের আরবি দৈনিক ‘আল কাবাস’-এর এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদ ইসলামকে (পাপুল) জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এ সপ্তাহের শুরুতে পাবলিক প্রসিকিউশনের দপ্তর পার্লামেন্টে একটি পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে। যেখানে আইনের অসংগতি আর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউশনের দপ্তরের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে বেশ কিছু অসংগতির কারণে রেসিডেন্ট পারমিটের ডিলারশিপ আর অবৈধ মুদ্রা পাচারের অপরাধে জড়িত অনেকে ফাঁক গলে বের হয়ে যেতে পারেন। কুয়েতের অনেক এমপিসহ অনেককে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। তেমনি অপরাধে মদদদানকারীদের অনেককে বাঁচানোর চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনো কোনো এমপি অভিযুক্ত সহকর্মীদের রক্ষার জন্য আইনে সংশোধনের চেষ্টাও করছেন। অথচ অভিযুক্ত এমপিরা বাংলাদেশের আটক এমপির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

‘আল কাবাস’-এর প্রতিবেদনটিতে শহীদ ইসলামের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে দেশটির এয়ারবাস কেনাকাটার দুর্নীতিতে এমপির ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গটিও এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের এমপির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা, দেশের ভাবমূর্তি আর পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
এদিকে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল শেখ মাজেন আল জাররাহ আল সাবাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছে। কারণ কুয়েতের শাসকদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই মেজর জেনারেল। তাই তাকে বরখাস্ত করার মধ্যে এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

Facebook Comments

Related Articles