বাবুনগরীর ওপর শাপলা চত্বরের দায় ও জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নামে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার উক্তিকে জঘন্য অপবাদমূলক মিথ্যাচার উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৬৬ জন শীর্ষ উলামা মাশায়েখ।

গত ৫ জুলাই এক যৌথ বিবৃতিতে উলামা-মাশায়েখরা বলেন, আমরা দেখে আসছি হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংগঠনের সুযোগ্য মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকভাবে সাহায্য ও আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং আমীরে হেফাজতের সাথে তার এ যাবৎ কোনরূপ মতপার্থক্য হয়নি।
তারা বলেন, কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল আমীরে হেফাজতের সাথে মহাসচিবের মতপার্থক্য ও দূরত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছেন এবং সর্বস্তরের মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য শক্তিশালী ঈমানী সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে দুর্বল করার ও ভাঙার হীন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।

এর আগে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সব অভিযোগ অস্বীকার করে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর সাম্প্রতিক কথোপকথনকে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। গত বুধবার (০২ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাবুনগরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ‘জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ও ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে মানুষকে নিয়ে মার খাইয়েছি’ বলে যে কথা বলেছে, তা সম্পূর্ণ নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। হেফাজত আমিরের পুত্রের এমন মিথ্যাচার আমাকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি। এগুলো আমার মানহানি করার অপচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্রও সম্পর্ক নেই। অতীত-বর্তমানে কোনো সময়ই জামায়াতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল না; বরং পুরো জীবন আমার লেখালেখিতে ও লাখ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে বয়ান-বক্তৃতার মধ্যে জামায়াতের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে আমি দেশবাসীকে সচেতন করে আসছি।

শফীপুত্র মাওলানা আনাস মাদানী থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মাওলানা আনাস মাদানী ফোনালাপে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করেছেন। তিনি শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলতে পারবে, তা আমি আশা করিনি। অথচ জেলে গেলাম আমি, রক্ত দিলাম আমি। রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতন ভোগ করলাম আমি। সেই রাতে হেফাজতের সমাবেশে কী হয়েছিল তা জাতি জানে, কিন্তু মামলার আসামি হলাম আমি।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে যা হয়েছিল তা আল্লামা শফীর অবগতিতেই হয়েছে দাবি করে বাবুনগরী বলেন, আমিরে হেফাজতের আনুগত্য করে, লাখ লাখ নবীপ্রেমিক জনতাকে বিপদের মুখে ঠেলে না দিয়ে আমার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝুঁকি নিয়ে শাপলার মঞ্চে অটল থাকাই কি আমার অপরাধ? আমি আমিরে হেফাজতের নির্দেশ মতে, লালবাগ থেকে শাপলা চত্বরে গিয়েছি এবং আমিরে হেফাজতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত শাপলা চত্বরে অবস্থান করেছি। বারবার মিডিয়াকে বলা হয়েছে যে, সেদিন যা হয়েছে আমিরে হেফাজতের নির্দেশেই হয়েছে। সুতরাং এতদিন পর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর নামান্তর।

এখনকার সরকারবান্ধব আলেমরাই ২০১৩ সালে জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করেছিল বলে দাবি করেন জুনায়েদ বাবুনগরী।
সংগঠনটির মহাসচিব বলেন, ২০১৩ সালে কারা জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে সুবিধা ভোগ করেছে আর আজ সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে কওমিদের নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে হেফাজতকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে, তা জাতি ভালো করেই জানেন। সময় মতো তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

Facebook Comments

Related Articles