এডমিন ক্যাডারে টিকলেন ‘২ মাস আগে বাড়িছাড়া হওয়া’ স্বাস্থ্য ক্যাডারের ডা. সেঁওতি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার হামিদা মুস্তফা সেঁওতি। এরপর তিনি চলে আসেন ময়মনসিংহের চড়পাড়া নয়াপাড়া এলাকায় স্বামীর ভাড়া বাসায়। সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। তার স্বামীও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানতে পেরে তাকে এলাকা থেকে বের করে দিতে নানারকম চাপ সৃষ্টি করেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ওই চিকিৎসক দম্পতিকে নগরের এস কে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন। প্রতিবেশীরা অনেকটা জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন, উনি খাবার খাওয়ার জন্য একটু সময় চেয়েছিলেন, দেয়া হয়নি।

এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে ডা. সেঁওতি লিখেছিলেন, ‘সবাই বলছে কাউকে বলো না। কেন বলব না? আমি তো কোনো দোষ করিনি। আমি আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। লকডাউনে যখন আপনারা বাড়িতে বসে সময় কীভাবে কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন তখন আমি হয়তো কোনো কভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ, আমি কভিড-১৯ পজিটিভ। এতে আমার কোনো লজ্জা বা ভয় বা আফসোস নেই। বরং আমি খুব গর্বিত। কারণ আমি শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে এসেছি। এখন যদি মরেও যাই আমার আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি ডাক্তার হিসেবে যে শপথ নিয়েছিলাম তা পালন করে এসেছি। আমি যত দিন পেরেছি আপনাদের জন্য হাসপাতালে এবং মাঠে কাজ করেছি।’

ডাক্তাররা ডাক্তারী পেশা ছেড়ে কেন বিসিএস দিয়ে অন্য ক্যাডারে যাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরটা এখানে পাবেন হয়ত।

ঠিক দুই মাস পর। ৩৮ বিসিএস রেজাল্ট । সেই ডাঃ সেওতি এডমিন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ।

আচ্ছা, আপনাদের সেবা করে আক্রান্ত হওয়া সেদিনের ডাঃ সেঁওতিকে তো অভুক্ত অবস্থায় বাড়ি ছাড়া করেছিলেন, কিন্তু আজকের সহকারী কমিশনার সেঁওতিকে বাড়িছাড়া তো দূরের কথা, একটু জোরে কথা বলার কথাও কি চিন্তা করতে পারবেন??

Facebook Comments

Related Articles