দেশেই সম্ভব করোনা ভ্যাক্সিন! অথচ পাচ্ছে না সঠিক মর্যাদা

শনিবার,৪ জুলাই,২০২০

কোভিড ১৯ এর ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে সর্বাধিক সফলতার তালিকায় এগিয়ে আছে অক্সফোর্ডের আবিষ্কৃত ভ্যক্সিন। এছাড়াও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত, চীন সহ আরও অনেক দেশ। তবে এবার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান থেকেও সাড়া পাওয়া গেছে ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের।

গ্লোব বায়োটেক নামক প্রতিষ্ঠান গত ২ জুলাই সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষনা কর্মকর্তা ড. আসিফ মাহমুদ, তাদের প্রাথমিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং করোনা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার এর দাবি জানান। তারা জানিয়েছেন, এনিমেল মডেলে তারা সফল হয়েছেন।
তারা আরও বলেন, NCBI ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩ টি সম্পূর্ন জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬ টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের ভ্যাক্সিনের টার্গেট নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছেন, উক্ত টার্গেটের সম্পূর্ন কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের NCBI ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছেন যা ইতিমধ্যেই NCBI কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে তারা ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারের সাহায্য কামনা করছেন। তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডাঃ আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের এখনো এমন কিছু জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী তারা বিষয়টি অফিসিয়াল চিঠি দিয়ে আমাদের জানাবে, এরপর আমরা সেটা দেখবো”

সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসিক্ত গ্লোব বায়োটেকের প্রধান গবেষনা কর্মকর্তা ড. আসিফ মাহমুদ

এদিকে, দেশের এতো বড় সফলতায় কারো নেই কোনো উচ্ছাস, কিংবা সামান্য অভিনন্দন বা ধন্যবাদ জানানোর প্রয়োজন ও মনে করেননি অনেকে। যেখানে ক্রিকেট, ফুটবল এর সাফল্যে পুরো দেশ একত্রে আনন্দে উচ্ছাসে অভিনন্দন জানান, সেখানে অনেকেই এই আবিষ্কার নিয়ে করছে উপহাস। হয়তো অনেকে মেনেই নিতে পারছে না বাংলাদেশে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার সম্ভব।
অন্যদিকে অন্যান্য ঔষধ কোম্পানি গুলোর মাঝেও কোনো আগ্রহ প্রকাশিত হচ্ছে না। এছাড়া গনমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে খুব একটা লেখা লেখি কিংবা প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। এত বড় অর্জনকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানো হয়েছে নিন্দা।

অথচ, এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে দিন রাত পরিশ্রম করছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রধান গবেষনা কর্মকর্তা ড. আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার অশ্রুসিক্ত চোখই প্রমাণ করে দেয় তাদের নিরলস চেষ্টার কথা।
ডা.আসিফ মাহমুদ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে বোর্ডে সপ্তম স্থান অধিকারী,নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস (থার্ড পজিশন), মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস (ফার্স্ট পজিশন)। তিনি চাইলেই হয়তো বিদেশে পাড়ি জমাতে পারতেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মত অন্যান্য দেশের হয়ে কাজ করে তিনি যদি সফল হতেন, হয়তো আমরা ঘরে বসে বাহবা দিতে কৃপণতা করতাম না। কিন্তু আজ নিজ দেশে থেকে যখন সাহস করেছেন এত বড় পদক্ষেপ নেয়ার সেখানে আমাদের সামান্য কৃতজ্ঞতাবোধ টুকু নেই।

আমরা কেউই বলছি না তাদের এটি চূড়ান্ত সাফল্য। আবিষ্কার এখন প্রথম পর্যায়ে। আরও অনেকটা পথ বাকি। কিন্ত এ অর্জন অনেক বড় অর্জন।

ড. আসিফ মাহমুদ অশ্রুসিক্ত চোখে তার বক্তব্যের শেষ অংশে বলেছেন,
“জাতিসংঘ দিবে সেই আশায় বসে থাকলে হবে না,সব দেশ বানাচ্ছে ; বাংলাদেশ কেন নয়… We don’t want to lose any more jobs;
We don’t want to lose any more savings;
We don’t want to lose any more happiness;
We don’t want to lose any more people;
We can’t afford to lose anymore”

হ্যা, সফল হোক কিংবা না হোক, যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নিজের দেশেই তারা এতো বড় পদক্ষেপ নিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা প্রশংসাযোগ্য এবং গর্বের বিষয়। আসুন তাদের সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের কামনা করি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাবেয়া আক্তার স্বর্না

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles