জেকেজি প্রতারণা করতে পারে এমন ধারণাও ছিল না অধিদপ্তরেরঃ প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নমুনা ফেলে দিয়ে হাজারো মনগড়া কোভিড-১৯ রিপোর্ট দেয়ার পর জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এখন বলছেন, প্রতারণার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।
শনিবার (১১ জুলাই) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন সাবরিনা। সেখানে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ও এডিজি ম্যাডামকে জানিয়ে ছিলাম’

এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সেবা সম্প্রসারণ করতে জেকেজি হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষার বুথ বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করতে পারে এমন ধারণাও ছিল না অধিদপ্তরের।

রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি’র প্রতারণার সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ জড়িত না উল্লেখ করে এতে বলা হয় ‘জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে চাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুল চৌধুরী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপেরও স্বত্ত্বাধিকারি। ওভাল গ্রুপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়ােজিত স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ ২০১৮-এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে। চিকিৎসা পেশাজীবিদের সংগঠণ বাংলাদেশ মেডিকেল এসােসিয়েশনেরও একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে।

কোভিড সংকট শুরু হওয়ার পর উক্ত আরিফুল চৌধুরী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসেন এবং জানান যে, তিনি জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক। জেকেজি গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলে বাংলাদেশে কিছু বুথ স্থাপন করতে চায়। এসব বুথের মাধ্যমে পিসিআর পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিসিআর ল্যাবরেটরিগুলােকে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকারকে কোন অর্থ দিতে হবে না। ধারণাটি ভালাে এবং কোভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধি করা প্রয়ােজন এই বিবেচনা থেকে ওভাল গ্রুপের সাথে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে অনুমতি দেয়া যায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনে হয়।

একটি ভালাে কাজের সাথে সংযুক্ত থাকার মানসে ঐতিহ্যবাহী তিতুমীর কলেজ কর্তৃপক্ষও জেকেজি গ্রুপের প্রতি সহযােগিতার হাত বাড়ায়। পরবর্তিতে প্রতারণার অভিযােগ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেকেজি গ্রুপকে প্রদত্ত বুথ পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। তাই দ্রুত কোভিড স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য ও সদিচ্ছা নিয়ে জেকেজিকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করতে পারে এমন ধারণা আদৌ ছিল না।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা প্রয়ােজন যে, ইদানিং কোন কোন স্বার্থান্বেসী মহল কল্পিত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনাম নষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সর্বোচ্চ শক্তি ও নিষ্ঠা দিয়ে কোভিডের মত মহাদুর্যোগ মােকাবেলা করছেন। এই রােগটির বিষয়ে কারুরই কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারি যদি অসততা বা অন্যায়ের আশ্রয় নেন সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী যথাযথ শাস্তি হােক তা সকলেই প্রত্যাশা করে।’


Facebook Comments

Related Articles