বউটাই যখন স্বামীকে অস্বীকার করছে, ভাগ ভক্ষণকারীরা কি নিজে থেকে পরিচয় দেবে?

জেকেজি আর রিজেন্ট কেলেঙ্কারি দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের স্বরুপ উদঘাটন করেছে। এই দানবদের পিছে যে বড় কেউ নেই এটা মানা কষ্টকর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখোমুখি অবস্থান, মন্ত্রীর দায় এড়িয়ে যাওয়া আমাদের আরও আতঙ্কিত করে। জেকেজি’র সাবরিনা গণমাধ্যমে বলেছেন তিনি উপরমহলে স্বামীর প্রতারণার কথা জানিয়েছেন। এর আগেও জেকেজি নিয়ে কম হইচই হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাস্তার ওপারে তিতুমীর কলেজে জেকেজি’র কথিত ক্যাম্পে জেকেজি’র ভলান্টিয়ারদের সাথে কলেজের কর্মচারীদের মারামারি হয়েছে। কর্মচারীরা জেকেজি’র কর্মীদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ করেছিলেন। গণমাধ্যমে সেসব আমরা দেখেছি।

মহাপরিচালকের জেকেজি পরিদর্শন বা মন্ত্রী, তিন সচিবের উপস্থিতিতে রিজেন্টের চুক্তি স্বাক্ষর মানুষের মনে সন্দেহের উদ্রেক ঘটাবে এটাই স্বাভাবিক। জেকেজি’র আরিফের স্ত্রী সাবরিনা বা রিজেন্টের সাহেদের স্ত্রী সাদিয়াকে দেখা যেত তাদের পাশেই। এসব অপকর্মের সঙ্গী যে সাবরিনা/সাদিয়া তা একাধিক পত্রিকার মারফতে আমরা জানতে পেরেছি। এখন এই স্ত্রীরা তো স্বামীর সাথে সম্পর্কের কথা পর্যন্ত অস্বীকার করছেন।

জেকেজি’র প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন জেকেজির অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা।
তিনি বলেছেন, জেকেজির সিইও আরিফ চৌধুরী এ মুহূর্তে আমার স্বামী না। আমরা আলাদা থাকছি। ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছি। আরও দুই মাস বাকি আছে (ডিভোর্স কার্যকর হতে)। (সময় টিভি)

শাহেদের স্ত্রী সাদিয়া গণমাধ্যমে বলেন, ‘কয়েকবার আমি তার কাছ থেকে চলেও গেছি। আমার পরিবারের কয়েকজনের সাথেও তার টাকা পয়সা নিয়ে গণ্ডগোল ছিলো। ওনার জন্য আমার পরিবারের অন্যরাও সমস্যায় আছে।’

স্ত্রীরাই যখন অস্বীকার করছে সম্পর্ক তখন ওদের সব ধরনের সাপোর্ট দেওয়া লোকজন যে এড়িয়ে যেতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু সাপোর্ট না, মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও আনা যায়। এসব কেন নজরদারিতে আনা হয়নাই? বছরের পর বছর যারা চোখ বন্ধ করে ছিল, দেখেও দেখে নাই তারা কেন এসব করেছে সেটাও জানা জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে একটি উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু হুশিয়ারি দিয়েছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে বারবার হুশিয়ারি দিয়েছেন। ওরা কি এতই শক্তিশালী যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা না বলে কেবল নিজের বা মন্ত্রণালয়ের দায়টা এড়িয়ে যান? জেকেজি বা রিজেন্টদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়নি কেউই?

প্রতারণার অনেক মামলা থাকার পরেও রাষ্ট্রপতির দাওয়াতে সাহেদদের অংশগ্রহণ, প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি এদের চলে যাওয়া আমাদের আতঙ্কিত করে। কিভাবে ওরা এতদূর গেল, কার কার সহযোগিতায় গেল এটা উদঘাটন করা অতীব জরুরী। জিকে শামীম চলে যাবে, পাপিয়া আসবে; এক সাহেদের জায়গায় জন্ম নেবে এক সাবরিনা আরিফ৷ এদের জন্মদাতাদের খুজে বের না করলে এই প্রক্রিয়া থামানো অসম্ভব। তাই দায়টা না এড়িয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ বড় চোরগুলোকে বের করা৷

লেখাঃ সাজ্জাদ আহমেদ।

Facebook Comments

Related Articles