‘মন্ত্রণালয় চাইলেই আমার চাকরি খেতে পারবেনা’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেনাকাটা, ঠিকাদার বিতর্ক ও নানান দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন যতই অভিযোগ আসুক না কেন তার বিরুদ্ধে কেউ কোন ব্যবস্থা নিতে পারবেনা। সাংবাদিকদের সাথে আলাপে দম্ভোক্তি করে তিনি বলেছিলেন, ‘মন্ত্রণালয় চাইলেই আমার চাকরি খেতে পারবেনা।’

‘একমাত্র আমিই ডিজি হয়েছি… স্বাক্ষরে। এর আগে যে ডিজি বানানো? মন্ত্রণালয় বলে দিতেন অমুককে ডিজি বানাও। দিস ইজ দ্যা ফার্স্ট টাইম আমাকে পিএম এর সই দিয়ে ডিজি বানানো হয়েছে। আমাকে যদি ডিজি থেকে বাদ দিতে বলে, মন্ত্রণালয় পারবেনা। এবং এইখানে আমাকে সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের রিপোর্টে সম্প্রতি এ দম্ভোক্তির ভিডিও প্রকাশ পায়। তাদের ফেসবুক পেজেও এর ভিডিও দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি কয়েকমাস আগে ধারণ করা হলেও এতদিন প্রকাশ পায়নি। আর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিচ্ছে কেননা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল (রবিবার) ডিজিকে শোকজ করেছে। এবং তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলেছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই চিঠির বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে শোকজ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতর কর্মকর্তা বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কী কী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান গতকাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) প্রতারণা উদঘাটনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়ে নানান সংবাদের পর ব্যাখ্যা দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দেয় অধিদপ্তর। এতে বলা হয় ‘মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। তবে ক্লিনিক দু’টি পরিদর্শনকালে চিকিৎসার পরিবেশ উপযুক্ত দেখতে পেলেও ক্লিনিক দু’টির লাইসেন্স নবায়ন ছিল না।

বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টির মহতী উদ্দেশ্য নিয়ে অপরাপর বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও উৎসাহ দানের লক্ষ্যে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে ২১ মার্চ ২০২০ তারিখে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিচয় থাকা তো দূরের কথা টক শো ছাড়া আগে কখনও মো. শাহেদকে দেখেননি। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বেশ ক’বার তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছিলেন।’

শনিবারের এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির কিছুক্ষণ পূর্বে ডাঃ সাবরিনা আরিফ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান তিনি মহাপরিচালককে জেকেজি’র প্রতারণার ব্যাপারে জানিয়েছিলেন। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের কেলেঙ্কারির পর তোপের মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি দেয়। এবং এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিকে শোকজ করা হয়। ডাঃ সাবরিনাকেও চাকুরিচ্যুত এবং গ্রেপ্তার করা হয়৷

Facebook Comments

Related Articles

Close