প্রধানমন্ত্রীকে সিন্ডিকেটের বিস্তারিত জানিয়েছিলামঃ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেছেন, ‘‘একটি শক্ত সিন্ডিকেট আছে, যার সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের লোকজনও জড়িত৷’’
‘‘আমি তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে এই সিন্ডিকেটের বিস্তিারিত জানিয়েছিলাম৷ তাঁকে প্রমাণ হিসেবে ডকুমেন্ট দিয়েছিলাম৷ তিনি ব্যবস্থা নিতেও বলেছিলেন৷’’

টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত এই সরকারের প্রথম মেয়াদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন ডা. আ ফ ম রুহুল হক৷ তিনি নিজেও কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সফল হননি বলে স্বীকার করেন সাক্ষাৎকারটিতে।

ডয়চে ভেলেতে উল্লেখ করা হয়,

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের মে মাসে পাঠানো এক নথিতে দেখা যায়, গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিঠু নামে একজন এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে৷ মিঠু এখন দেশের বাইরে৷ তবে তার নিয়ন্ত্রণেই এখনো সিন্ডিকেট চলে৷ ওই নথিতে সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে একজন সাবেক মন্ত্রী, একজন বর্তমান মন্ত্রী, তার পিএস ও তার ছেলের নামও রয়েছে৷ নাম রয়েছে একজন অতিরিক্ত সচিবেরও৷ বর্তমান মন্ত্রী, তার পিএস এবং মন্ত্রীর ছেলে এই সময়ে নানা অর্ডার ও কেনাকাটায় প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে নথিতে বলা হয়েছে৷

ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, একই সিন্ডিকেট বিএনপি’র আমলেও সক্রিয় ছিল৷ সরকার বদলালেও তাদের ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হয় না৷ তিনি চেষ্টা করেও এই সিন্ডকেট দমনে ব্যর্থ হয়েছিলেন৷ তার মতে, এখানে মন্ত্রীদেরও করার কিছু থাকে না৷ তারা নানা নামে কাজ করে৷ তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের লোকজনও জড়িত৷ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর ও বাইরের প্রভাবশালীরা মিলেই সিন্ডিকেটটা করে৷ আর এ কারণেই নিয়মের বাইরে গিয়ে অবৈধ রিজেন্ট হাসপাতাল ও জিকেজি হেলথ কেয়ার চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে৷

Facebook Comments

Related Articles