শাহাবুদ্দিন মেডিকেলের মালিক বিএনপি নেতা বলেই কি সবাই চুপ?

সরকারের স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিবিরোধী সাম্প্রতিক অভিযানে উঠে আসছে একের পর এক অনিয়মের চিত্র। এসব অনিয়ম নতুন নয়, দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে বলে সবাই মনে করছেন৷ সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা আর বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের পকেট কাটা এসবই যেন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। এই আস্থাহীনতার জন্যই রোগীরা বিদেশমুখী।

সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ সরকারি দলের সাথে যুক্ত। অপরাধীরা সরকারি দলের ছদ্মাবরণে অপরাধ করে এটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশে পুরনো ঘটনা৷ রিজেন্টের সাহেদ ও জেকেজি’র আরিফ-সাবরিনাও সেরকম৷ এদের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন উঠেছিল। এখনো হিট সাহেদ সাবরিনা কাহিনী। তবে বিএনপি নেতার হাসপাতালের প্রতারণার ব্যাপারে যেন একটু ব্যতিক্রম। বলছি শাহাবুদ্দিন মেডিকেলের মালিক শাহাবুদ্দিন ও তাদের প্রতারণার কথা৷

র‍্যাবের অভিযানে রিজেন্ট হাসপাতালের মতো শাহাবুদ্দিন মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালেও করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

তারা কোন পরীক্ষা ছাড়াই অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করেও নিত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাস্ক, গ্লাভস- এগুলো একাধিকবার ব্যবহার করছে। এগুলো মূলত একবারই ব্যবহারযোগ্য (ওয়ানটাইম ইউজেবল)। কিন্তু তারা এগুলো বারবার ব্যবহার করছে। এতে রোগীদের ঝুকি আরও বেড়ে যায়।

গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেলের মালিক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। রমনা-তেজগাঁ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।

গণমাধ্যমে সাহেদ-সাবরিনা-আরিফের মত ধারাবাহিক সিরিজ হয়নি শাহাবুদ্দিনদের মালিককে নিয়ে। যদিও কোন গণমাধ্যমই কারো অপকর্ম নিয়ে কোন রিপোর্ট প্রকাশ করে নি সরকারের অভিযানের পূর্বে। বরং সাংবাদিকদের সাথে সাহেদদের সুসম্পর্ক অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে।

শুধু শাহাবুদ্দিন মেডিকেল হাসপাতাল নয়, ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে নন কোভিড রোগী কিভাবে গেল, কিভাবে ৫ জন আগুনে পুড়ে মারা গেল এসবই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার বাইরে ছিল। সেই হাসপাতালের পরিচালক বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।

তাহলে কি ব্যাপারটা এমন যে বিএনপির অপরাধ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই এড়িয়ে যায়? গণমাধ্যমও এড়িয়ে যায়?নাকি ভাসুরের নাম মুখে নিতে মানা?

Facebook Comments

Related Articles