ওয়াসীর মৃত্যুর এক বছরঃ শোভন রাব্বানীর বিচার চান জবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত দুই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার বিচার দাবী করেছেন৷ গতবছর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে সুলতান মোহাম্মদ ওয়াসীর মৃত্যুতে শোভন রাব্বানীর অবহেলার দায় ছিল বলে মনে করেন তিনি। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবী করেন। তিনি লিখেন,

‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মী মরহুম সুলতান মোহাম্মদ ওয়াসীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ওয়াসীর আত্মার শান্তি কামনা করছি।
জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে। দেশের প্রচলিত আইনে অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যাক্তির সাজা হয়। দায়িত্ব অবহেলা জনিত কারনে ওয়াসী মৃত্যুর দায়ে শোভন রাব্বানীর বিচার চাই।ওয়াসী হত্যার বিচার চাই।’

গত বছর, ২০১৯ সালের ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক করে ওয়াসীর মৃত্যু হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সম্মেলন সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ততকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী উপস্থিত না হওয়ায় সম্মেলন শুরু হয় চার ঘন্টা পর বিকাল তিনটায়। প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে ক্যাম্পাসে আসেন শোভন ও রাব্বানী।

এর কিছুদিন পরেই নানান অভিযোগে শোভন রাব্বানীকে ছাত্রলীগ থেকে পদচ্যুত করা হয়।

মুহাম্মদ ওয়াসীর পরিবার এখন অসহায়। যুবলীগের এক নেতা ছাড়া কেউ খোঁজ নেয়নি তাদের। স্বামী ও সন্তান হারানোর পর আরেক সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন ওয়াসীর মা। তিনি রাজধানীর পল্লবীতে ছোট একটি ঘর ভাড়া করে বাস করছেন। পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতার ওপর ভর করে দিন যাচ্ছে তাদের।

কিছুদিন আগে ওয়াসীর মা বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে আমার ছেলে প্রাণ হারিয়েছে। আমি একজন ছাত্রলীগকর্মীর গর্বিত মা। ওয়াসী মারা যাওয়ার পর অনেকে অনেক আশ্বাস দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেয়নি। এ নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নেই। তবে আমি একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’

এদিকে ওয়াসীর মা ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। বিবার্তার সম্পাদক বানী ইয়াসমিন হাসি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘এদেশে পাপুলরা সপরিবারে এমপি হয়। সাহেদ সাবরিনাদের জন্য গণভবনের দুয়ার খুলে বসে থাকে কেউ কেউ। কেবল ওয়াসীর মায়ের জন্যই কেউ থাকে না। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিতে দিতে মরে যাওয়া ওয়াসীর মা আজ পর্যন্ত আপার সাথে দেখা করতে পারেন নি।
না, ওয়াসীর মায়ের কান্না আপা পর্যন্ত পৌঁছে দেয় নি কেউ। কারণ ওয়াসী যে ছাত্রলীগ করতো। ছাত্রলীগ করা এই সময়ে সবচেয়ে বড় অপরাধ যে!’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মসজিদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত ওয়াসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়। কর্মসূচীতে যোগ দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

Facebook Comments

Related Articles