হাসপাতালে কমেছে নন-কোভিড রোগীদের উপস্থিতি

সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে কমেছে কোভিড আক্রান্ত হয়নি এমন রোগীদের উপস্থিতি। ২৬ মার্চ সরকার কতৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই হাসপাতালমুখী হচ্ছেন না অনেক রোগী। এমনকি সীমিত আকারে সবকিছু সচল করে দেওয়ার পরেও হাসপাতালে উপস্থিতি বাড়েনি নন-কোভিড রোগীদের।

আগে যেসব রোগীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতেন,তারাও এখন যাচ্ছেন না করোনা আতঙ্কে। অনেকেই বলছেন তারা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ সহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতেন কিন্তু করোনা আতঙ্কে গত চার মাস হাসপাতালে যেতে পারেননি।

এদিকে সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতাল পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে বিভিন্ন চিত্র। বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের সংখ্যা ছিল তূলনামূলকভাবে খুবই কম। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত রোববার রোগী ভর্তি ছিল ১২০০ জন। যেখানে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন রোগী থাকত প্রায় ৩০০০ জন। এছাড়াও রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে গত রোববার ভর্তি ছিল ৫৬৭ জন রোগী, যেখানে আগে এই উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০। আবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছে ৫৪২ জন। যেখানে আগে সেবা নিত প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার রোগী। হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক উক্ত অবস্থার জন্য করোনা সংক্রমণকেই দায়ী করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র এবং হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সকল রোগীই পাচ্ছেন। বঞ্চিত হচ্ছেন না কোন রোগী। যাদের প্রয়োজন তারা হাসপাতালে আসছেন। আর যাদের খুব একটা প্রয়োজন নেই তারা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

এছাড়াও আরও জানা যায়,শুধু নন-কোভিড রোগীরাই নন,হাসপাতালে সেবা নিতে যাচ্ছেন না অনেক কোভিড আক্রান্ত রোগীরাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ভাষ্যমতে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর ৭২ শতাংশ সিট খালি থাকছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ উক্ত অবস্থার জন্য আস্থার সংকটকে দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন,উক্ত সংকট দূরীকরণে সরকার অবশ্যই কাজ করবে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ সবাইকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

Facebook Comments

Related Articles