অসভ্যের দেশে সাম্যবাদী করোনা

শুক্রবার,২৪ জুলাই,২০২০

বছরের শুরুর দিকের কথা।সবে করোনা হানা দিয়েছে বিশ্বের কিছু দেশে।চীন এবং কিছু ইউরোপীয় দেশের কিছু ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে স্বভাবতই বাংলাদেশের জনগণের একটি অংশের ক্ষোভ ছিল।দুঃখজনকভাবে তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের অশিক্ষিত জনতার একটি অংশ মানুষের মৃত্যুর সংবাদে পৈশাচিক উল্লাস প্রকাশ করল।অথচ কারো মৃত্যুতে এমন আচরণ যে ইসলাম কেন,কোন ধর্মই সমর্থন করে না।এই জ্ঞান তাদের ক’জনের আছে!
এরপর বাংলাদেশে এল করোনা;বাইরের মানুষ না,প্রবাসীরা নিজ দায়িত্বে দেশে বহন করে আনলেন কোভিড-১৯ ভাইরাস।বাংলাদেশের মানুষের করোনা হবে না-বুলি ঝাড়লেন তারা।সায় ও দিল একটা বড় অংশের মানুষ।লকডাউন না মেনে মাসের পর মাস তারা নির্দ্বিধায় মাস্কবিহীন ঘুরে বেড়াল।নেতৃত্বমহল সাধারণের কি হবে-এতসব না ভেবে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর হলেন না।একসময় জীবিকার প্রয়োজনে সব আস্তে আস্তে খুলে দেওয়া হল।জনস্রোত বাড়লো,সাথে করোনারও শ্রীবৃদ্ধি হল।জনগণের একটা বড় অংশের কাছেই ভণ্ড কাঠমোল্লাদের গজব থিওরি আর থানকুনি পাতা/পানিপড়া চিকিৎসার ডোজ বেশি বিশ্বাসযোগ্য। তাইতো ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার জানাজায় লাখো লোক সমাগম হয়,ধর্মকে কেবল ভয় করে এর নিগূঢ় অন্ত:স্থল না জানা মানুষদের অনেকে একে সমর্থনও দেয়।তাইতো ইদের আগে বাড়ি যাওয়ার জন্য পুলিশি-প্রশাসনিক বাধার পরও জনতার গায়ে গা লাগিয়ে বাড়ি যেতেই হবে।অগত্যা তাদের যেতে দেওয়া হল,ইদের পর দেখা গেল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পেরিয়ে করোনা তার হটস্পট সারা দেশে বিস্তৃত করেছে!
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থার একমাত্র হিসেবে চিকিৎসকদের গালি দেওয়া জনতা হঠাৎ দেখলো,এখন ভুল চিকিৎসায় না,পর্যাপ্ত আইসিইউ আর উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে রোগী মরছে।যাদের অবহেলার জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই বেহাল দশা,সেই আইন প্রণেতা উঁচুতলার মানুষেরাও রেহাই পেলেন না।মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী,আমলা,তাদের আত্মীয়স্বজনেরাও করোনায় আক্রান্ত হতে লাগলেন,মারাও যেতে লাগলেন।এ যেন সুই পুরাতন প্রবাদ ই মনে করিয়ে দেয় “মন্দির পুড়লে দেবালয় রক্ষা পায় না”।
জানি এত কিছুর পর‍ও মিডিয়ায় কেবল সামাজিক দূরত্ব নামক বুলিসর্বস্ব প্রচার চলবে,জনতা মাস্ক না পরে বা গলায় ঝুলিয়েই জীবিকার কাজে বেরোবে।আসন্ন ইদ-উল-আযহায় ও সড়কপথ,জলপথে বাড়ির পথ ধরা লাখো জনতার সমাগমের ছবি পত্রিকার ফ্রন্ট পেজে ছাপাবে।
বাঙালির সয়ে যাওয়া এইসব অভ্যাস কিন্তু শুধু মূর্খতা না অসভ্যতারই নামান্তর।কিন্তু পুঁজিবাদী ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের দেশে করোনা নামক ভাইরাস এসব জাত-বর্ণ-ধর্ম-শ্রেণির পার্থক্য মানে না।তার কাজ,অরক্ষিত মানুষের দেহে আক্রমণ করা।মানুষের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ তার নিত্যকর্ম।এই যুদ্ধে তার বিরোধী পক্ষ হল মাস্কবিহীন অসচেতন মানুষ।সে হোক মন্ত্রী বা রিকশাওয়ালা।শ্রেণী বিভাজনের অসুস্থ চর্চার দেশে তাইতো সে সাম্যবাদের বার্তা বইয়ে দিচ্ছে।সেই সাম্যবাদের স্রোতে ভেসে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে কত প্রাণ!

তবু কি আদৌ টনক নড়বে ২০২০ এর বিশ্বে মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা লালন করা বাঙালির!সভ্য হতে না শিখলে সাম্যবাদী যোদ্ধা করোনার বিজয় কিন্তু অবধারিত!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপন সৌরভ

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles