লুজান চুক্তি শেষে তুরস্কের হাত ধরেই কি আবার পুনরুজ্জীবিত হবে ইসলাম?

শুক্রবার,২৪ জুলাই,২০২০

আপনি কি জানেন,পৃথিবীর সব থেকে নির্যাতিত কোন ধর্মের লোক? কোন এক অজানা কারনেই ইসলাম ধর্মের লোকেরাই পৃথিবীর সব থেকে নির্যাতিত।

সিরিয়া,ইরাক,ফিলিস্থিন,মায়ানমারের রোহিঙ্গা, চীনের উইঘুর জনগোষ্ঠী,ভারতের সংখ্যালঘু এমন অনেক উদাহরণ আপনাদের চোখের সামনে ইতিমধ্যেই।

এই নির্যাতনের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়ার অন্যতম কারন হচ্ছে উচ্চমহল থেকে কোন প্রতিবাদ না করতে পারা, ইসলামি ধর্মবিশিষ্ট দেশের প্রধান সংঘটন OIC( organisation of islamic cooperation) কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে না পারা, সৌদি আরবের মতো ক্ষমতাবান এবং বিত্তশালী দেশগুলো কাঠপুতুল হয়ে যাওয়া।
অপ্রিয় হলেও সত্য এমন কাঠপুতুল বনে যাওয়ার লিস্ট আরো বিশাল হচ্ছে দিনে দিনে

এতোসব কিছুর মধ্যেও একটি দেশ ব্যাতিক্রম।দেশটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট রেসেপ এরদোগানের তুরস্ক।

ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তাদের পাশে থাকা,মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশে অবস্থানরতো রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে খুবই সচল মনোভাব এছাড়া তুরস্কে রোহিজ্ঞা শিক্ষার্থীদের জন্য নানারকম সুযোগ সুবিধাও দিয়ে আসছে। এছাড়া অতিসাম্প্রতি আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর প্রসংশা কুড়িয়েছে অনেক ইসলাম প্রেমিকদের।

তুরষ্কের এই ইসলামপ্রিয় মনোভাব,ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার মনোভাব অনেককেই আশা দেখায় হয়তো তুরস্কের হাত ধরেই আবার পুনরুজ্জীবিত হবে হারিয়ে যাওয়া ইসলামের গৌরব আর ক্ষমতা। কিন্তু এই আশার প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়ে আছে লুজান চুক্তি।
কি এই লুজান চুক্তি? আসুন জেনে নেই লুজান চুক্তি সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

লুজান চুক্তি কি?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন মিত্রশক্তির জয় হয় এবং হেরে যায় কেন্দ্রীয় শক্তি।জার্মানি,অস্ট্রিয়া,হাঙ্গেরী,বুলগেরিয়ার পর পতন ঘটে উসমানিয়া সাম্রাজ্য । এর ফলে মিত্র শক্তি এই বিশাল ৩৪ লক্ষ বর্গ কিঃমি এর বিশাল সাম্রাজ্যকে টুকরো করে প্রায় ৪০টি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করে।
উসমানিয়দের কফেনের শেষ পেরেকটি মারে কুখ্যাত লুজান চুক্তি। কি ছিলো এই লুজান চুক্তিতে? ৫ ধারার এই লুজান চুক্তি তুলে ধরা হলোঃ

(১) খেলাফত ধ্বংসঃ চুক্তি অনুযায়ী উসমানীয় সম্রাজ্যের শিকড় তুলে ফেলে সমূলে ধ্বংস করে ফেলা হয়। উত্তরাধিকারদের করা হয় গুপ্তহত্যা।
এবং তাদের সব সম্পদ প্রাচার করা হয় পশ্চিমা বিশ্বে।

(২)সেক্যুলার রাষ্ট্রঃ এই ধারা অনুযায়ী ইসলাম চর্চা প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আরবিতে আজান নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। পবিত্র কোরানে ভাষা পর্যন্ত পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তাদের ভাষা চ্যাঞ্জ করে ল্যাটিন ভাষা করা হয়। এর ফলে কয়েকঘন্টার মধ্যেই একটি জাতি হয়ে যায় অক্ষর জ্ঞানহীন।

(৩) জ্বালানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞাঃ এই ধারায় তুরষ্ককে ভূগর্ভ থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলন,ব্যাবহার এবং বাজারজাতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।এর ফলে একটি জাতির অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে গলা টিপে মারা হয়।

(৪) বসফরাস প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞাঃ এই প্রণালি দিয়ে সহজেই এশিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়া যায়।
এই প্রণালি তুরস্কে অবস্থিত হলেও লুজান চুক্তি অনুযায়ী এই প্রণালি সবাই ব্যবহার করতে পারবে তুরস্ক কোন রকম ট্যাক্স এবং বাধা প্রধান করতে পারবে না

(৫)হেজাজ নিয়ন্ত্রণঃ মূলত ১৯৩২ সালে সৌদি রাজবংশ সৃষ্টি হওয়ার আগ পর্যন্ত মক্কা আর মদিনা নিয়ন্ত্রণ ছিলো তুরস্কের উসমানিয় সাম্রাজ্যের।কুখ্যাত লুজান চুক্তির মাধ্যমে উসমানীয়দের একশো বছরের জন্য হেজাজ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখে।তুর্কিরা এখনো হজ্জ করতে গেলে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাপ ধরে কান্না করে আর বলে,” হে আল্লাহ, আমাদের আবারো মক্কা মদিনার খেদমত করার সুযোগ দান করো”।

এই ছিলো তুরস্কের গলার কাটা লুজান চুক্তি।যেই চুক্তি দ্বারা তুরস্ককে মূলত বিশ্বের ক্ষমতাবান দেশে হওয়ার থেকে আটকিয়ে রেখেছে।তবুও তুরস্ক এখনো মুসলিম বিশ্বের যে কোন ডাকে সবার আগে সাড়া দেয়।

২০২৩ সালে এই লুজান চুক্তির শেষে যে তুরস্ককে এক ভিন্ন রূপে দেখা যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তারজন্যই অনেক মুসলিমদের মনে আশা জাগায় আবার হয়তো তুরস্কের হাত ধরেই পুনরুজ্জীবিত হবে ইসলাম। যেই তুরস্ক যখন হেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতো তখন তারা তাদেরকে আরবদের শাসক বলতো না তারা নিজেদের বলতো আরবদের সেবক, সেই তুরস্কের হাতেই ইসলামের পতাকা আবার গর্বের সাথে বুক ফুলিয়ে উড়বে পৃথিবীর আকাশে তা আশা করা যেতেই পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিজান শেখ

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles

Close